আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও বাড়ছে অস্থিরতা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহার, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু শেয়ার বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। জ্বালানির খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও পরিষেবার দামও বাড়তে শুরু করে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজেট চাপে পড়ে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে এই ধরনের অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ শেয়ার বাজার স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া লাভজনক হতে পারে।


বাজার পড়ে গেলে এসআইপি বিনিয়োগকারীরা কম দামে বেশি ইউনিট কিনতে পারেন। দীর্ঘ সময় পরে বাজার ঘুরে দাঁড়ালে সেই বিনিয়োগ থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির সুযোগও এনে দিতে পারে।


তবে শুধুমাত্র শেয়ার বাজারে নির্ভর না করে বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ ইক্যুইটির পাশাপাশি সোনা, স্থায়ী আমানত, বন্ড বা অন্যান্য নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমেও কিছু অর্থ রাখা উচিত। এতে বাজারে বড় ধাক্কা এলেও সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়।


বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে। এর ফলে সূচক পড়ে যেতে পারে এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর মূল্য কমে যেতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে আবেগপ্রবণ হয়ে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার বদলে আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা বজায় রাখা জরুরি।


অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সঞ্চয়ের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি দৈনন্দিন খরচ দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে অনেক পরিবারের সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে জরুরি তহবিল তৈরি করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক মাস আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, মার্কিন সুদের হার এবং বিশ্বে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। তাই এই সময়ে হঠাৎ লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

&t=1s
সব মিলিয়ে বলা যায় বাড়তি অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বাজারের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের আর্থিক জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।