আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতীয় শেয়ার বাজারে জোরালো প্রত্যাবর্তন। লেনদেনের মাঝপথে বিএসই সেনসেক্স প্রায় ১,০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে এবং নিফটি ফিফটি ২৩,৭৫০-এর উপরে পৌঁছে যায়। গত কয়েক দিনের অস্থিরতার পর বাজারে এই বড় উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত, কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা—এই সব মিলিয়েই বাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে চীন তাদের ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।


বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আশঙ্কা কিছুটা কমতেই ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ফিরে এসেছে। বিশেষ করে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আমদানি-নির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির উপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।


বাজারে উত্থানের পিছনে আরও কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে।
প্রথমত, সাম্প্রতিক পতনের পরে বহু বিনিয়োগকারী কম দামে ভালো শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে বাজারে ফিরে এসেছেন। একে বলা হচ্ছে “ভ্যালু বায়িং”। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, আইটি এবং অটো সেক্টরে বড় কেনাকাটা দেখা গিয়েছে।


দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটাও বাজারকে সমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা দেখছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।


তৃতীয়ত, বিশ্ব বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। এশিয়ার বেশ কিছু শেয়ার বাজারে সবুজ সংকেত মিলতেই তার প্রভাব পড়ে ভারতীয় বাজারেও।


চতুর্থত, টাকার স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাপ থাকলেও ভারতীয় মুদ্রা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।


পঞ্চমত, কেন্দ্র সরকারের একাধিক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাবও বিনিয়োগকারীদের মনোবল বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষা এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা বাজারে আস্থা তৈরি করেছে।


ষষ্ঠত, দেশের বড় বড় সংস্থার আর্থিক ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় ভালো হওয়ায় কর্পোরেট আয়ের উপর আস্থা বেড়েছে।


সপ্তমত, খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এখনও শক্তিশালী রয়েছে। এসআইপি এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট বৃদ্ধির ফলে বাজারে নিয়মিত অর্থ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

 

&t=1s
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ভারতীয় বাজারের ভিত মজবুত রয়েছে। তবে মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের উপর আগামী দিনের বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।