আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার পতন অব্যাহত। শুক্রবার টাকার ইতিহাসে প্রথমবার ৯৬ টাকার গণ্ডি পার করে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। এদিন টাকা প্রায় ০.৩ শতাংশ দুর্বল হয়ে ডলারের বিপরীতে ৯৬.০৫ টাকায় নেমে আসে। এর আগের সেশনে টাকা ৯৫.৯৫৭৫ স্তরে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিল, যা এবার ভেঙে নতুন নজির তৈরি হল।


বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহারের ফলে ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি মার্কিন অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থান এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলিও দুর্বল হয়ে পড়ছে।


ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উচ্চস্তরে থাকায় ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার উপর।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে এবং টাকার দুর্বলতা বাড়ছে। একই সঙ্গে তেল বিপণন সংস্থা ও বড় আমদানিকারকদের তরফেও ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।


টাকার এই পতনের ফলে সাধারণ মানুষের উপরও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ টাকা দুর্বল হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে পেট্রোল, ডিজেল, ইলেকট্রনিক পণ্য, মোবাইল ফোন, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের খরচ বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়ছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি টাকার দর আরও কমতে থাকে, তাহলে দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেলে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে। এতে সাধারণ মানুষের মাসিক খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।


তবে কিছু ক্ষেত্রে টাকার দুর্বলতা লাভও এনে দিতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ এবং বস্ত্রশিল্পের মতো রপ্তানিমুখী সংস্থাগুলি ডলারে আয় করে। ফলে টাকা দুর্বল হলে তাদের আয় ভারতীয় মুদ্রায় বেশি হয়ে যায়। এর ফলে এই খাতগুলির লাভ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

&t=1s
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, মার্কিন সুদের হার, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের গতিবিধি টাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ডলারের বিপরীতে টাকার এই ঐতিহাসিক পতন ভারতের অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হতে পারে বাড়তি খরচ, আর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের জন্য বাড়তে পারে অনিশ্চয়তা ও চাপ।