আজকাল ওয়েবডেস্ক: কার্বন ডাই-অক্সাইড সাধারণত বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। এই গ্যাস পৃথিবীর তাপ আটকে রেখে ধীরে ধীরে গ্রহের গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, একই কার্বন ডাই-অক্সাইড আবার পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলকে ঠান্ডাও করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাব একরকম নয়। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অংশে এই গ্যাস তাপ আটকে রাখে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের অনেক উপরের স্তরে গিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড ঠিক উল্টো কাজ করে — সেখানে এটি তাপ মহাকাশে ছেড়ে দিয়ে পরিবেশকে ঠান্ডা করে।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। সবচেয়ে নীচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ার, যেখানে আমরা বাস করি এবং আবহাওয়ার বেশিরভাগ পরিবর্তন ঘটে। এর উপরে রয়েছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার এবং থার্মোস্ফিয়ার। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ট্রপোস্ফিয়ারে কার্বন ডাই-অক্সাইড তাপ শোষণ করে আটকে রাখে, যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে। কিন্তু থার্মোস্ফিয়ারের মতো উচ্চ স্তরে বাতাস অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় কার্বন ডাই অক্সাইড সহজেই তাপ বিকিরণ করে মহাকাশে পাঠিয়ে দেয়। ফলে সেই স্তর ঠান্ডা হতে শুরু করে।
এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবও ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। কারণ ঠান্ডা হলে গ্যাসের আয়তন কমে যায়। এর ফলে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের গতিপথেও পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্মোস্ফিয়ার ঠান্ডা ও সংকুচিত হয়ে গেলে স্যাটেলাইটের উপর বায়ুর ঘর্ষণ কমে যায়। এতে মহাকাশে পুরনো বা অচল স্যাটেলাইট এবং মহাকাশের আবর্জনা দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। ভবিষ্যতে এটি মহাকাশ অভিযানের জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, উপরের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে গেলে জিপিএস, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তিতেও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের এই স্তরগুলি রেডিও তরঙ্গ এবং স্যাটেলাইট সংকেত পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে এর মানে এই নয় যে কার্বন ডাই-অক্সাইড পৃথিবীর জন্য উপকারী হয়ে উঠছে। বরং গবেষকরা সতর্ক করেছেন, নিচের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধির ফলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাব আরও বাড়ছে।
বর্তমানে শিল্প, যানবাহন, কয়লা ও তেল পোড়ানো এবং বনভূমি ধ্বংসের কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে পৃথিবীর জলবায়ু আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
&t=1s
তাই নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, দূষণ কমানো এবং বন সংরক্ষণ এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। কারণ পৃথিবীর নীচের স্তরে উষ্ণতা এবং উপরের স্তরে শীতলতার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন ভবিষ্যতের জলবায়ুর জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন বিজ্ঞানীরা।















