আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন শিল্পমহল। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদল শিল্পোন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একইসঙ্গে তারা সতর্ক করছেন—সবকিছু নির্ভর করবে বাস্তবায়নের উপর।
নির্বাচনে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে, পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার নেতৃত্বে থাকা মমতা ব্যানার্জির সরকার। শিল্পমহলের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হতে পারে, যা কাঠামো উন্নয়ন এবং বড় বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
শিল্পমহল মনে করছে, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিক সূচকে জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। ২০১২-১৩ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত রাজ্যের গড় জিএসডিপি বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৪.৩%, যেখানে জাতীয় গড় ৫.৬%। একই সময়ে দেশের জিডিপিতে রাজ্যের অংশও কমেছে—৬.৮% থেকে নেমে ৫.৮%-এ। মাথাপিছু আয়ও জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২০% কম রয়েছে।
তবে সম্পূর্ণ চিত্রটা নেতিবাচক নয়। সাম্প্রতিক কিছু তথ্য বলছে, শিল্প ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিবর্তনকে “টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে দেখছেন অনেক শিল্পপতি।
শিল্পপতি হর্ষবর্ধন নেওটিয়া মনে করেন, একটি স্থিতিশীল সরকার ব্যবসার আস্থা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়। তাঁর মতে, রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে কাঠামো উন্নয়ন আরও গতিশীল হতে পারে এবং ব্যবসা করা সহজ হবে।
তবে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়—এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিল্পমহলের অনেকেই। রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তা মহেশ আগরওয়াল বলেন, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া, নীতিগত সংস্কার এবং শহর উন্নয়নে জোর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, আবাসন, টেকসই উন্নয়ন এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, উপকূলীয় এলাকা এবং লজিস্টিক্স খাতে নতুন করে জোর দেওয়া যেতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুরে তাজপুর বন্দরের মতো প্রকল্পগুলি পুনরুজ্জীবিত হলে তা বড় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিতে পারে।
&t=125s
সব মিলিয়ে শিল্পমহলের মতে এই নির্বাচনী ফলাফল পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে বিনিয়োগের মানচিত্রে তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে প্রত্যাশা পূরণ হবে কিনা, তা নির্ভর করবে নতুন সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির উপর।















