আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে আবারও বাড়ছে প্রত্যাশা। চলতি বছরের জুলাই মাসে মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে—এমনই জল্পনা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, অর্থনৈতিক সূচক এবং অতীতের ট্রেন্ড দেখে অনেকেই এই সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে আছেন।
ডিএ মূলত মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সামলাতে কর্মচারীদের বেতনের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্র সরকার বছরে দু’বার—জানুয়ারি ও জুলাই—ডিএ সংশোধন করে থাকে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে জুলাই ২০২৬-এ ডিএ প্রায় ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর ফলে বর্তমানে যে হারে ডিএ দেওয়া হচ্ছে, তা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসবে। এই প্রত্যাশার আরেকটি বড় কারণ হল অতীতের ধারা। গত কয়েক বছর ধরে ডিএ বৃদ্ধির হার সাধারণত ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এবারও সেই একই ধারা বজায় থাকতে পারে।


এদিকে, ৮ম বেতন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা চললেও তা এখনও বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই দূরে। ফলে আপাতত কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের কাছে ডিএ বৃদ্ধিই একমাত্র তাৎক্ষণিক স্বস্তির উপায়। বেতন কাঠামো বড়সড় পরিবর্তন না হলেও, ডিএ বাড়লে মাসিক আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি এবং দৈনন্দিন খরচের চাপ সাধারণ মানুষের মতোই সরকারি কর্মচারীদের উপরও পড়ছে। তাই ডিএ বৃদ্ধি তাদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করবে।


তবে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—ডিএ বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের উপর নির্ভরশীল। অর্থ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি চূড়ান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণত সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে জুলাইয়ের ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয় এবং তা পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর হয়।

 

&t=125s
সব মিলিয়ে বলা যায় ৮ম বেতন কমিশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অপেক্ষার মাঝেই জুলাইয়ে সম্ভাব্য ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে উঠতে পারে। যদিও এখনও সরকারি ঘোষণা আসেনি, তবুও অর্থনৈতিক সূচক এবং অতীতের অভিজ্ঞতা এই আশাকে আরও জোরালো করছে।