আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকার অবসরকালীন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডে অর্থ তোলার পদ্ধতিতে একটি বড় ধরনের সংস্কারের কথা বিবেচনা করছে। এই প্রস্তাবগুলো ভারতের লক্ষ লক্ষ বেতনভোগী কর্মীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক 'এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম' (ইপিএস-৯৫)-এর অধীনে ন্যূনতম পেনশন বর্তমান মাসিক ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত করার একটি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। যদি এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়, তবে এটি 'এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন' (ইপিএফও)-এর পেনশন সুবিধাগুলোর ক্ষেত্রে অন্যতম বড় একটি সংস্কার হিসেবে গণ্য হবে, যা বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে উপকৃত করবে।

পেনশন বৃদ্ধি এবং সুদের হারের প্রস্তাবনা
প্রস্তাবিত পেনশন সংস্কারের বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এর ফলে সরকারের ওপর আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। এর পাশাপাশি, ইপিএফও ​​প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা অর্থের ওপর বার্ষিক ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ প্রদানের প্রস্তাব দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, অনুমোদন পাওয়ার পরেই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে এই সুদের অর্থ জমা হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সরকার একদিকে যেমন আর্থিক সংগতির বিষয়টি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তেমনই অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার দাবি (বিশেষ করে নির্দিষ্ট পেনশনের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দাবি) পূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

এটিএম থেকে অর্থ তোলার ক্ষেত্রে দ্রুততর সুবিধা লাভ
বিবেচনাধীন আরেকটি বড় সংস্কার হলো প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম-এর মাধ্যমে অর্থ তোলার সুবিধা চালু করা। এই সুবিধার মূল লক্ষ্য হলো তহবিল উত্তোলনের প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুততর করা, যাতে দীর্ঘ ও জটিল দাবি-দাওয়া নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা কমে আসে।

এই পদক্ষেপটি মূলত সুবিধা বৃদ্ধি এবং ডিজিটালকরণের বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ। এর ফলে গ্রাহকরা জরুরি প্রয়োজনে কিংবা পূর্বপরিকল্পিত উত্তোলনের ক্ষেত্রে তাদের সঞ্চিত অর্থ আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারবেন।

ইপিফও-র রেকর্ড সংখ্যক দাবি নিষ্পত্তি
'এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন' (ইপিএফও) জানিয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাবি নিষ্পত্তির সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। গত অর্থবছরে যেখানে ৬.০১ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছিল, সেখানে এই অর্থবছরে ৮.৩১ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫.৫১ কোটি দাবিই ছিল অগ্রিম বা আংশিক অর্থ তোলার আবেদন, যা সদস্যদের মধ্যে এই সুবিধা ব্যবহারের হার বৃদ্ধির বিষয়টিই তুলে ধরে।

শুধুমাত্র এপ্রিল ২০২৬ মাসেই ইপিএফও ​​মোট ৬১.০৩ লক্ষ দাবি নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৮.৭০ শতাংশ দাবিই ২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা সংস্থাটির কার্যদক্ষতার উন্নতিরই পরিচায়ক।

ডিজিটাল উদ্যোগ এবং 'E-PRAAPTI'-এর সূচনা
ডিজিটাল উদ্যোগগুলো বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়াকে আরও সুবিন্যস্ত ও সহজতর করে চলেছে। চেকের ছবি আপলোড করার প্রয়োজন ছাড়াই প্রায় ৬.৬৮ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিয়োগকর্তার কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই ১.৫৯ কোটি অ্যাকাউন্ট সরাসরি ব্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৭০.৫৫ লক্ষ স্থানান্তর দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর করার লক্ষ্যে, ইপিএফও ​​‘E-PRAAPTI’ পোর্টাল চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণের সাহায্যে তাদের নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো পুনরায় সক্রিয় করতে পারেন, যা বিশেষ করে সেইসব ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক, যাদের অ্যাকাউন্টগুলো কোনও ‘ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর’ (ইউএএন)-এর সঙ্গে সংযুক্ত নয়। অদূর ভবিষ্যতে, ‘মেম্বার আইডি’ নেই এমন ব্যবহারকারীদের জন্যও এই সুবিধাটি সম্প্রসারিত হতে পারে।

(ইপিএস-৯৫ হলো EPFO-এর আওতাধীন একটি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প, যা বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের অবসরের পর মাসিক পেনশন নিশ্চিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর  থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্পে ১০ বছর বা তার বেশি চাকরি করা কর্মীরা ৫৮ বছর বয়সে পেনশনের যোগ্য হন। )