আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে জ্বালানি ও সার খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র সরকার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রকল্পে প্রায় ৩৭,৫০০ কোটি টাকার একটি স্কিমে খুব শিগগিরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলতে পারে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল এলএনজি, ইউরিয়া, এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা উৎপাদক হলেও, জ্বালানি ও সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনও বড় অংশে আমদানির উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে এলএনজি ও ইউরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে বৈদেশিক নির্ভরতা দেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে। এই প্রেক্ষাপটে কয়লাকে গ্যাসে রূপান্তর করে তা বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করার পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
কয়লা গ্যাসিফিকেশন একটি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কয়লাকে সিন্থেটিক গ্যাস বা ‘সিনগ্যাস’-এ রূপান্তর করা হয়। এই গ্যাস পরবর্তীতে সার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। ফলে একই সঙ্গে কয়লার কার্যকর ব্যবহার এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস—দুই লক্ষ্যই পূরণ করা সম্ভব।
সরকারের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পে বেসরকারি এবং সরকারি উভয় ক্ষেত্রের সংস্থাকে উৎসাহ দেওয়া হবে। বিশেষ প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন ও পরিচালনা সহজ করা হবে বলে জানা গেছে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই মজবুত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রভাব থেকেও কিছুটা মুক্তি মিলতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানির দাম প্রায়ই বেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের আমদানি বিল বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যয়বহুল এবং পরিবেশগত দিক থেকেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও কঠোর পরিবেশ নীতি প্রয়োজন হবে। তাই সরকারকে একদিকে যেমন শিল্পোন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে, তেমনই পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
&t=125s
সব মিলিয়ে বলা যায় ৩৭,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প ভারতের জ্বালানি ও শিল্পনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি দেশকে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।















