আজকাল ওয়েবডেস্ক: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে টুরিস্ট হেল্পলাইন নম্বর বা পর্যটক সহায়তা নম্বর। প্রথম পর্যায়ে শিলিগুড়িতে এই পরিষেবার পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। সফল হলে ধাপে ধাপে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র এবং পরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিযোগ উঠে আসছিল। কখনও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কখনও ভুয়ো ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণা, আবার কখনও হোটেল, গাড়ি বা অন্যান্য পরিষেবা নিয়ে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ জানাতে গিয়ে পর্যটকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। সেই সমস্যার সমাধান করতেই এবার সরাসরি হেল্পলাইন পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর।

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটক হয়রানির অভিযোগ আসছে। কখনও প্রতারণা, কখনও দুর্ব্যবহার—এসব কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পর্যটকরা নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলেই দ্রুত অভিযোগ নথিভুক্ত হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, শুধুমাত্র অভিযোগ গ্রহণ নয়, পর্যটকদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পর্যটন দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রেখে এই পরিষেবা পরিচালিত হবে। ফলে কোনও পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বৈধ পর্যটন ব্যবসায়ী, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, হোমস্টে এবং পর্যটন-সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানকারীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটকরা সহজেই অনুমোদিত পরিষেবা প্রদানকারীদের সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রতারণার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে পর্যটন দপ্তর।

পর্যটন দপ্তরের আশা, এই হেল্পলাইন পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা যাবে এবং উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্প আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও পর্যটক-বান্ধব হয়ে উঠবে। সরকারের এই উদ্যোগ পর্যটন পরিষেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।