আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং নতুন রাজনৈতিক শিবির গঠন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। এই দলবদল এবং কার্যালয় দখলের কোন্দলকে তীব্র উপহাস করে তিনি বলেন, “এতদিন মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলের হাঁড়িতে মধু ছিল, তাই সবাই সেখানে বসেছিল। এখন মধু শেষ, তাই ছটফটানি শুরু হয়েছে।” 

নিজেকে মমতা ব্যানার্জির চরম বিরোধী দাবি করেও তিনি যোগ করেন, যাঁরা এতদিন সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আজ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তাঁর বিরুদ্ধেই এমন আচরণ করছেন, তাঁরা আদতে আদর্শহীন। একই সঙ্গে তথাকথিত ‘ভালো তৃণমূল’ গড়ার প্রক্রিয়াকে অন্যায়-দুর্নীতি থেকে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর একটি নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম বলেও খোঁচা দেন নওসাদ।

দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে এই প্রকাশ্য সংঘাতের সমান্তরালে ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের আইনি লড়াই এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছল নির্বাচন কমিশনে (Election Commission)।  এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের মাঝেই এক বড় পদক্ষেপ নিয়ে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত শিবির—উভয় পক্ষকেই নিজেদের যাবতীয় দাবি এবং সপক্ষে নথিপত্র জমা দিতে হবে।  

এই দল কার এবং আসল প্রতীক কার পাওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করতেই এই কড়া সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কালীঘাট শিবির তাদের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে কমিশনে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। প্রগতি ময়দান থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ এবং কমিশনের এই ডেডলাইনের পর আগামী সপ্তাহে বাংলার এই রাজনৈতিক নাটকের জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন পলকহীন নজর রাজনৈতিক মহলের।