আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার কাশীপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি একাধিক উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবং অন্য একটি মামলায হুমায়ুন কবীরকে রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ নোটিশ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
শুক্রবার হুমায়ুন শক্তিপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরা না দিলেও শনিবার নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই রেজিনগর থানায় পৌঁছে যান। প্রায় চার ঘণ্টা হুমায়ুন কবীর তদন্তকারী আধিকারিকের কড়া জেরার মুখে পড়েন।
তবে এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক হুমায়ুন কবীরের উত্তরের সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাঁকে আগামী ১৪ জুলাই ফের একবার রেজিনগর থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত ইতিমধ্যেই রেজিনগর থানার পুলিশ কাশীপুর এলাকায় যে রাজনৈতিক জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর 'ঘৃণা ভাষণ' দিয়েছিলেন তার দুই উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা এবং আমিনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে। এর পাশাপাশি গত ৮ মে হুমায়ুন কবীর শক্তিপুরের যে জনসভায় শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে 'কুকথা' সহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন সেই জনসভার উদ্যোক্তা আনিসুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দু'টি থানাতেই হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় সুয়ো মোটো মামলা রুজু হয়ে রয়েছে। শুক্রবার হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন জুম্মার নামাজ পড়তে যাবেন বলে তিনি শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে পারছেন না। তবে বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে শক্তিপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিককে জানাননি।
শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটার সময় হুমায়ুন কবীরকে রেজিনগর থানায় তদন্তকারী আধিকারিকের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। শনিবার বেলা ১১.২৫ নাগাদ হুমায়ুন কবীর রেজিনগর থানায় পৌঁছে যান।
সূত্রের খবর, এর পরই এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক হুমায়ুন কবীরকে জেরা করা শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,কাশীপুরের রাজনৈতিক জনসভা থেকে যে উচ্চস্বরে হুমায়ুন কবীর উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন শনিবার তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হয়ে বিধায়কের সেই মেজাজ একদমই ছিল না। প্রায় চার ঘন্টা জেরা চলাকালীন হুমায়ুন কবীর একবার শৌচাগারে যান। এই সময়ের মধ্যে তিনি তদন্তকারী আধিকারিকের কাছ থেকে একবার জল চেয়েও খেয়েছেন।
তবে সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরকে তদন্তকারী আধিকারিক যে প্রশ্নগুলো করেছেন বিধায়ক তার মধ্যে একাধিক প্রশ্নের সঠিক জবাব বা দেননি বা সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। সেই কারণেই তদন্তকারী আধিকারিকের তরফ থেকে হুমায়ুন কবীরকে ফের আগামী ১৪ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। থানা থেকে বার হওয়ার আগেই হুমায়ুন সেই নোটিশ গ্রহণ করেছেন।
থানা থেকে বার হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন,"গত ২৬ জুন কাশীপুরের রাজনৈতিক জনসভা থেকে যে বক্তব্য রেখেছিলাম তার পরিপ্রেক্ষিতে রেজিনগর থানা ২৭ জুন আমার বিরুদ্ধে একটি সুয়ো মোটো মামলা রুজু করেছে। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের নির্দেশ মোতাবেক আমি সঠিক সময় থানায় পৌছে গিয়েছিলাম।"
তিনি আরও বলেন," পুলিশ আমার জন্য দশ পাতার একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করে রেখেছিল। তদন্তকারী আধিকারিক ছাড়াও আরও দু-তিনজন আধিকারিক আমাকে একাধিক প্রশ্ন করেছেন এবং গোটা প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে।"
হুমায়ুন আরও জানান,"জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন পুলিশের তরফ থেকে একবার আধিকারিকও পরিবর্তন করা হয়েছে। নিচুতলার আধিকারিকেরা উপর তলার নির্দেশ মেনে কাজ করছেন। পুলিশ আমাকে যা জিজ্ঞাসা করেছে আমার সাধ্যমত তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।"
তবে সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুন আজ ফের একবার দাবি করেন," রেজিনগরের জনসভা থেকে আমি যে বক্তব্য রেখেছি তার যথেষ্ট কারণ ছিল। তবে আমার আচরণ এর পরে যেমন সংযত হবে শাসকের আচরণও যেন সংযত থাকে। আমাকে কেউ আক্রমণ করলে আমি তার উদ্দেশ্যে রসগোল্লা ছুঁড়ব না।"















