আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনতার বিপুল আশীর্বাদ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর সরকারে বসেই মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এবং সরাসরি আমজনতার অভাব-অভিযোগ শুনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অত্যন্ত চর্চিত ও সফল ‘জনতা দরবার’ মডেল এবার চালু হতে চলেছে এ রাজ্যেও। আগামী ১ জুন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
নতুন সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এবার তিনি নিজেই সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন এবং তাঁদের নানা সমস্যা ও অভিযোগের কথা শুনবেন। শুধু কথা শোনাই নয়, মানুষের সমস্যার যাতে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান করা যায়, সেই চেষ্টাও করা হবে। এই দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ও নোডাল আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন, যাতে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১ থেকে ২ দিন এই ‘জনতার দরবার’-এ সময় দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সেখানে সরাসরি তাঁদের আবেদন বা অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা করতে পারবেন।
শাসনব্যবস্থাকে একেবারে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কেবল নিজে দরবার করাই নয়, দলের সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের জন্যও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ নির্দেশ দিয়েছেন, "মানুষ নিজের সমস্যার কথা বলছে, অথচ আপনারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না—এমন ঘটনা যেন কোনওভাবেই না ঘটে। মানুষের উন্নয়ন করার জন্য কোনও দল দেখার দরকার নেই। আপনি বিধায়ক মানে আপনার এলাকার সব মানুষের জন্য কাজ করা আপনার মৌলিক দায়িত্ব।" তিনি বিধায়কদের নির্দেশ দেন, সপ্তাহে অন্তত ২ দিন নিয়ম করে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হবে। যে সমস্যার সমাধান স্থানীয় স্তরে সম্ভব তা দ্রুত করতে হবে, আর যা সম্ভব নয়, সেটাও মানুষকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলতে হবে।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ‘জনতা দরবার’ মডেল অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে ও দ্রুত পরিষেবা প্রদানে এই ব্যবস্থা দারুণ কার্যকর বলে প্রমাণিত। এবার ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের বুকেও এই একই মডেল কার্যকর হতে চলায় স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহিত সাধারণ রাজ্যবাসী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রকে অনেক সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলবে এবং সরকারের সঙ্গে জনতার সরাসরি সংযোগ বাড়াতে এক নতুন দিশা দেখাবে।















