আজকাল ওয়েবডেস্ক: মনে আছে অনুব্রত মণ্ডলের সেই বহুচর্চিত ডায়লগ? 'ঢাক বাজবে চরাম চরাম'। একসময় রাজনৈতিক সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করেই বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছেড়েছিলেন তিনি। এবার সেই ঢাকই বেজে উঠল। চরাম চরাম আওয়াজও শোনা গেল। তবে তা অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের হাতে নয়, বরং তারই বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিজয় মিছিলে। কার্যত, অনুব্রত মণ্ডলকে ব্যঙ্গ করেই এই কর্মসূচি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে রাজ্যে। ২০০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গেরুয়া শিবিরের তরফে শুরু হয়েছে বিজয় মিছিল, আবির খেলা ও উচ্ছ্বাস উদযাপন। সেই ছবিই ধরা পড়েছে বীরভূমের বোলপুরেও। ইতিমধ্যেই বোলপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপির তরফে বিজয় মিছিল ও অভিনন্দন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে রবিবার বিকেলের কর্মসূচি ছিল একেবারেই আলাদা মাত্রার।
এদিন বোলপুর পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আয়োজন করেন বিশাল বিজয় মিছিলের। এই ওয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডলের এলাকা হিসেবেই পরিচিত। ফলে রাজনৈতিক দিক থেকে এই কর্মসূচিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মিছিল ঘিরে ছিল উপচে পড়া ভিড়, ডিজের তালে নাচ, আবির উড়িয়ে উদযাপন, বাড়ি বাড়ি মিষ্টি ও লাড্ডু বিতরণ এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ঢাকের বিশেষ আয়োজন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিশেষভাবে ঢাকিদের নিয়ে আসা হয়েছিল। অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছতেই প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন ঢাকি একসঙ্গে নাগাড়ে বাজাতে শুরু করেন চরাম চরাম ঢাক। সঙ্গে চলতে থাকে উচ্চস্বরে ডিজে। পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের আবহে ভরে ওঠে। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের অনেককেই তখন উচ্ছ্বাসে নাচতে দেখা যায়। রাজনৈতিকভাবে এই দৃশ্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
যদিও বিজেপির দাবি, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানানো এবং পরিবর্তনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। তবে রাজনৈতিক কটাক্ষ যে ছিল, তা কার্যত স্পষ্ট বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। এদিনের বিজয় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বোলপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, বিজেপির বীরভূম জেলা মুখপাত্র সুমিত মণ্ডল, শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ মহাদেব মুখোপাধ্যায় সহ ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বুথ সভাপতি ও নেতৃত্ব।
এই প্রসঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা সুমিত মণ্ডল। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি অনুব্রত মণ্ডলেরই ভাই। সুমিতের অভিযোগ, শুধুমাত্র বিজেপি করার অপরাধে তাকেও কম অত্যাচার করা হয়নি। তিনি বলেন, অনুব্রত মণ্ডলের ভাই জেনেও অতীতে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, এমনকী জেলেও যেতে হয়েছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সীমাহীন হিংসার শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে প্রতিশোধ নয়, বিজেপি আদর্শ ও নীতির রাজনীতি করে বলেই দাবি সুমিতের । তার কথায়, বিজেপি হিংসার বদলে হিংসায় বিশ্বাস করে না। তবে দাদা ঢাকের আওয়াজ শুনতে খুব ভালোবাসেন, তাই বিজয় মিছিলে বিশেষভাবে ঢাকের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বোলপুরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনেই বিরোধী শিবিরের এমন প্রকাশ্য উচ্ছ্বাস ও কটাক্ষ নিঃসন্দেহে নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।















