সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

REVIEW: ভূমির লড়াইয়ে কাঁটা দুর্বল চিত্রনাট্য, ‘ভক্ষক’ হয়ে ওঠা রক্ষকদের চেনালো পুলকিতের ছবি

পরমা দাশগুপ্ত | ০৫ মার্চ ২০২৪ ০০ : ১৬


রক্ষকই ভক্ষক। ক্লিশে হয়ে যাওয়া প্রবাদ আজও যখন-তখন হানা দেয় বাস্তবে। বিশেষত তার কেন্দ্রে যদি থাকে অনাথ মেয়েদের আশ্রম। এবং তার উপরে ছাতা হয়ে থাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক মদত। অসহায় নাবালিকা মেয়েদের তখন ভক্ষকের শিকার হওয়া আটকায় কে!

বেশ কয়েক বছর আগে মজঃফরপুরের এমনই এক হোমে যৌন নির্যাতনের ঘটনা শোরগোল ফেলেছিল গোটা দেশে। সাজা পেয়েছিলেন এক প্রভাবশালী মন্ত্রী-সহ প্রায় ১১ জন। বাস্তবের সেই ঘটনার সঙ্গেই বেশ খানিকটা মিল ‘ভক্ষক’-এর। নেটফ্লিক্সের এই ছবিতে তিন প্রধান চরিত্রে রয়েছেন ভূমি পেডনেকর, সঞ্জয় মিশ্র এবং আদিত্য শ্রীবাস্তব। 

গল্পে বিহারের মুনাওয়ারপুরের এক হোমে অনাথ নাবালিকাদের উপর অত্যাচারের খবর এসে পৌঁছয় পাটনার এক ছোট্ট নিউজ পোর্টালের রিপোর্টার বৈশালী সিং (ভূমি)-এর কাছে। বয়স্ক ক্যামেরাম্যান ভাস্কর সিনহার (সঞ্জয়) সঙ্গে পোর্টালটি চালান বৈশালীই। এক রাতে ইনফর্মার তাঁর হাতে তুলে দেয় সোশ্যাল অডিট রিপোর্ট। যাতে লেখা ছিল ওই হোমের পরিস্থিতির কথা। এবং যে রিপোর্ট জমা পড়া সত্ত্বেও নড়েচড়ে বসেনি প্রশাসন। কারণ? ওই হোম চলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী বংশী সাউয়ের (আদিত্য) অঙ্গুলিহেলনে। যার হাত প্রশাসনে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছয়। 

বৈশালী নেমে পড়ে অসম লড়াইয়ে। সঙ্গে ভাস্কর। দু’জনে মিলে খুঁজেপেতে ঠিক বার করে আনে সব রকমের তথ্য এবং সাক্ষী। পরিবারের অসহযোগিতা, তাঁদের উপরে নেমে আসা আঘাতও থামাতে পারেনি বৈশালীকে। বরং তাঁদের অদম্য জেদের কাছে হার মেনে শেষমেশ প্রশাসনও এগোতে বাধ্য হয়। ধরা পড়ে বংশী ও তার দলবল। উদ্ধার পায় মেয়েরাও। 

নিজে মারাঠি ভূমি। পাটনার বাসিন্দা, একেবারে মাটি ছোঁয়া বিহারী সাংবাদিক হিসেবে তাঁর সংলাপ কিংবা আচরণ কিন্তু কোথাও বেমানান লাগেনি। বরং নিখুঁত। সাহস, জেদ, পরিশ্রম, কাজে লেগে থাকার অধ্যবসায় এবং মানবিকতা, সবটুকু দিয়ে বৈশালীর চরিত্রকে বুনেছেন ভূমি। ভাস্করের ভূমিকায় সঞ্জয়ের অভিনয় যথারীতি দুর্দান্ত। প্রভাবশালী চরিত্রের কাঠিন্যে বিশ্বাসযোগ্য লাগে আদিত্যকেও। 

কিন্তু শুধু বলিষ্ঠ অভিনয় দিয়ে কি আর যুদ্ধ জেতা যায়! দুর্বল চিত্রনাট্য, ডিটেলিংয়ের প্রতি অমনোযোগ এবং কমজোরি বুনন সবটাতেই জল ঢেলে দিয়েছে অনেকটা। পরিচালক পুলকিত বাস্তব-নির্ভর শক্তিশালী কাহিনি নিয়ে ছবি করার সাহস দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মুন্সীয়ানা কই? গল্পের সবটুকু জুড়ে বারবারই বলা হয়েছে বংশী সাউ কতটা প্রভাবশালী, কতটা নৃশংস। কিন্তু দু’একটা সংলাপ বাদে তেমন কিছু দেখা যায়নি গোটা ছবিতে। সাক্ষী খুঁজতে বৈশালীকেও বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। একেবারে হাতের নাগালে মিলে গিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী। আবার একেবারে ঠিক সময় দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলাও। এদিকে, গোটা ছবিতে রিপোর্টে লেখা ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত বৈশালী। কিন্তু একবারের জন্যও তাঁকে ওই রিপোর্ট যাঁরা বানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি। সব পক্ষের বক্তব্য জানা সাংবাদিকতার প্রথম পাঠ। আবার খোদ পুলিশের এসপি নিজের দলকে নয়, সাংবাদদিককেই প্রমাণ জোগাড় করে দিতে বলেন! 

তবে হ্যাঁ, এতশত খামতির পরেও কয়েকটা জায়গায় ‘ভক্ষক’ নিশ্চিত ভাবে প্রশংসা আদায় করে নিতেই পারে। বাস্তবে ছোট শহরের পোর্টালকে দর্শকের নজরে পড়তে ঠিক কতটা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়, প্রভাবশালীদের মদতপুষ্ট অপরাধকে আলোয় আনতে ঠিক কতটা সাহস, জেদ আর পরিশ্রম লাগে— সে জায়গাটা নির্ভুল ভাবে তুলে এনেছে এ ছবি। 

সেই সঙ্গেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আরও একটা বিষয়। রূঢ়, নির্মম বাস্তব দিয়ে দর্শকের মনে দাগ কাটতে অযথা গলার শির ফুলিয়ে চেঁচামেচি না করলেও চলে। সংবাদপাঠিকা শান্ত অথচ দৃঢ় থেকেও স্রেফ কথা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে এমন আঘাত হানতে পারেন, যা সোজা বুকের ভিতরে ধাক্কা মারার ক্ষমতা রাখে। এই দৃশ্যগুলোয় ভূমি ঠিক তাই করেছেন অবলীলায়।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া