মঙ্গলবার প্রয়াত হয়েছেন আমেরিকান মেটাল সঙ্গীতশিল্পী ওজি ওসবোর্ন। বয়স হয়েছিল ৭৬। শোকের ছায়া বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে। শোকাচ্ছন্ন সঙ্গীতপ্রেমীরাও। তবে জীবনের বেশির ভাগ সময়ই ওজি ডুবে ছিলেন মাদকে। বিশ্বখ্যাত হেভি মেটাল ব্যান্ড ব্ল্যাক সাবাথ-এর প্রাক্তন মুখ্য গায়ক ওজি ওসবোর্ন আর নেই। বুধবার, ২৩ জুলাই সকালে বার্মিংহ্যামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই রক আইকন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানায়নি তাঁর পরিবার।

 

এক সরকারি বিবৃতিতে ওসবোর্নের পরিবার জানিয়েছে, “শব্দে প্রকাশের বাইরে থাকা শোকের মধ্য দিয়ে জানাতে হচ্ছে—আমাদের প্রিয় ওজি ওসবোর্ন আজ সকালে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন। আমরা সবার কাছে আমাদের গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানাই।” এই বার্তাটি তাঁর স্ত্রী শ্যারন ওসবার্ন সহ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালে ওসবোর্ন নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত। তবে বুধবার তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পারিবারিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।

 
চলতি বছরের ৫ জুলাই, বার্মিংহ্যামের ভিলা পার্কে ব্ল্যাক সাবাথের একটি ফেয়ারওয়েল কনসার্টে শেষবারের মতো মঞ্চে দেখা গিয়েছিল ওসবার্নকে। অনুষ্ঠানে তিনি একটি কালো সিংহাসনে বসে পারফর্ম করেন। সেই পারফরম্যান্সকেই ধরা হয় তাঁর শেষ জনসমক্ষে উপস্থিতি হিসেবে।এই বিদায় কনসার্টে বিশ্বজুড়ে ভক্তরা হাজির হয়েছিলেন। অনেকেই বলছেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের এক আবেগঘন পরিসমাপ্তি ঘটে।

 

'প্রিন্স অফ ডার্কনেস' এর শুরু থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা।  ১৯৪৮ সালের ৩ ডিসেম্বর, ইংল্যান্ডের অ্যাস্টন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন জন মাইকেল ওসবার্ন। কৈশোরে স্কুল ছেড়ে বিভিন্ন কারখানায় কাজ করা থেকে শুরু করে, একসময় জামাকাপড় চুরির অভিযোগে জেলেও গিয়েছিলেন।তবে বদলে যায় জীবনের মোড়, যখন বন্ধুর সঙ্গে মিলে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘আর্থ’। পরে এই ব্যান্ডের নামই বদলে রাখা হয় ‘ব্ল্যাক সাবাথ’। ১৯৭০ সালে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান তাঁরা।

 

১৯৭৯ সালে মাদকাসক্তির কারণে ব্যান্ড থেকে বাদ পড়েন ওসবোর্ন। এরপর শুরু করেন একক কেরিয়ার, যা তাঁকে সঙ্গীতজগতের আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। একাধিক হিট অ্যালবাম এবং বিশ্বব্যাপী ট্যুরের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারকে অন্য এক মাত্রা দেন।

তিনি ছিলেন এমন এক চরিত্র যিনি নিজেকে ‘প্রিন্স অফ ডার্কনেস’ বলে অভিহিত করতেন—আর তাঁর মঞ্চের উপস্থিতি, কণ্ঠ এবং জীবনযাপন সেই উপাধিকে যেন বাস্তব করে তুলত।