আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারতীয় ফুটবল সমর্থকদের উত্তেজনার মাঝেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর কয়েক সপ্তাহ বাকি, অথচ এখনও পর্যন্ত ভারতে কোনও সম্প্রচারকারী ঠিক হয়নি।
সাধারণত এই সময়ে টিভি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের ঝড় শুরু হয়ে যায়। দর্শকরাও জেনে যান কোথায় খেলা দেখা যাবে। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। কোনও নিশ্চিত টিভি পার্টনার নেই, নেই বড় কোনও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা। গোটাটা ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ভেস্তে যাওয়া চুক্তি। ফিফার কাছে ভারতের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিল রিলায়েন্স-ডিজনির যৌথ উদ্যোগ। কিন্তু তাদের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি ফিফা।
এর ফলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ও ভারতের প্রথম সারির সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। ১১ জুন টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা, ফলে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, ইতিমধ্যেই ১৭৫টিরও বেশি দেশে বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু ভারত ও চীনের মতো বড় বাজারে বিশ্বকাপের সম্প্রচার এখনও অনিশ্চয়তায়।
যা সাধারণত এই পর্যায়ে খুবই বিরল। মূল সমস্যাটা ছিল অর্থমূল্য নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ। ফিফা প্রথমে ভারতের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল। যদিও পরে সেই দাবি কমানো হয়। তবুও সম্প্রচারকারীরা সেই মূল্য দিতে আগ্রহী হয়নি।
রিলায়েন্স-ডিজনির যৌথ উদ্যোগ প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। যা ফিফার কাছে খুব কম মনে হয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রচার সংস্থাগুলোর মতে এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা ভারতীয় ফুটবলে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক নয়।
এর পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। বেশিরভাগ ম্যাচ ভারতে রাত সাড়ে বারোটা থেকে সকাল সাতটার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। যা দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনী আয়ে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভারতের বাজারে এখনও ক্রিকেটের প্রভাব অনেক বেশি, ফলে ফুটবলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। এই মুহূর্তে কিছুই নিশ্চিত নয়, তবে শেষ মুহূর্তে কোনও না কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
রিলায়েন্স-ডিজনি: প্রথম সারির দাবিদার। দরদাম মিটলে শেষ মুহূর্তে চুক্তি হতে পারে
প্রসার ভারতী, দূরদর্শন: বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনাল, ফাইনাল) সম্প্রচার করতে পারে
সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক/জি: আলোচনায় থাকলেও খরচের কারণে আগ্রহ কম
ফিফা+: কোনও প্রচলিত সম্প্রচারকারী না মিললে ফিফার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার হতে পারে
ইউটিউব: চমক হিসেবে কিছু ম্যাচ এখানে স্ট্রিম হতে পারে















