আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের আগে বড়সড় বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে জনসমক্ষে বারবার ‘নিষেধাজ্ঞা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, বাস্তবে বিষয়টি ততটা সরল নয়। আসলে, মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কিন্তু কোনও শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।

তাঁর ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র বোর্ডের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যা মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে কোনও খেলোয়াড়কে ‘রিলিজ’ করা হলে তার অর্থ হল, সংশ্লিষ্ট দল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয় এবং দল নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পায়।

এতে খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আইপিএল বা বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনও শাস্তি আরোপ করা হয় না। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার অর্থ শাস্তি।

যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনও খেলোয়াড়কে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং সাধারণত এর পেছনে কোনও অভিযোগ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ থাকে। নির্দিষ্ট তদন্তের পর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবেই প্রথমটির মধ্যেই পড়ছে।

সাধারণত বিসিসিআই নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে রয়েছে আইপিএলের নিয়ম ভঙ্গ। যেমন নিলামে নির্বাচিত হওয়ার পর বৈধ চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানো, যার ফলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে পরবর্তী একাধিক মরশুমের নিলাম থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং বা দুর্নীতির প্রস্তাব গোপন রাখার মতো গুরুতর অভিযোগে সবচেয়ে কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। যার সঙ্গে বিসিসিআইয়ের অ্যান্টি-কোরাপশন ইউনিট বা আইসিসির তদন্ত জড়িত থাকে।

ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী খেলোয়াড়কে নির্বাসন বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়। আবার জুনিয়র বা ঘরোয়া ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতি কিংবা আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলাভিত্তিক শুনানির পর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

কিন্তু মুস্তাফিজুরের ক্ষেত্রে এরকম কোনও ঘটনা ঘটবে না। তাঁকে শুধুমাত্র দল থেকে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি। মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও অভিযোগই নেই।

তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি, আইপিএলের কোনও নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মেলেনি, কোনও তদন্ত হয়নি এবং বিসিসিআইয়ের তরফে কোনও নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়নি।

ফলে তাঁর বিষয়টি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তিনি অন্য প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য রয়েছেন এবং আইসিসি বা তাঁর দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও তাঁর উপর কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।