ইস্টবেঙ্গল - ২ (অষ্টম ওরাও, আশালতা দেবী-পেনাল্টি)
ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ম্যাচের শেষ বাঁশি বেজে গিয়েছে। গ্যালারি প্রায় ফাঁকা। আচমকা চোখ গেল রঘু নন্দীর দিকে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সাহায্য ছাড়া হাঁটা-চলা করতে পারেন না। তাও সপরিবারে মাঠে হাজির। ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে একটা যোগসূত্র রয়েছে ময়দানের পোড়খাওয়া কোচের। ইস্টবেঙ্গল মাঠে কলকাতা লিগের ম্যাচে ট্রেভর মর্গ্যানের লাল হলুদকে চার গোলে হারিয়েছিল এরিয়ান। হ্যাটট্রিক করেছিলেন চার্লস এগওয়ার। ক্লাবের প্রধান স্পনসর ছিল টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ। কোচ ছিলেন রঘু নন্দী। মাঝে বেশ কয়েকবছর কেটে গিয়েছে। নিজস্ব ফুটবল দল করেছে টেকনো গ্রুপ। সেই পুরাতনের টানেই মাঠে হাজির।
এদিন কন্যাশ্রী কাপে প্রথম হার ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের। টানা ছয় জয়ের পর প্রথম ধাক্কা। সোমবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে জিতল ইস্টবেঙ্গল। গোল করেন অষ্টম ওরাও এবং আশালতা দেবী। দুটো গোলই দ্বিতীয়ার্ধে। জয়ের ফলে গ্রুপে একনম্বরে শেষ করল লাল হলুদ। তবে ইউকেএসসির প্রশংসায় রঘু নন্দী। আফশোস, ম্যাচটা ড্রও হতে পারত। প্রথম গোল অফসাইড থেকে। তবে জানান, নতুন দল হিসেবে নজর কেড়েছে। ভাল ফুটবল খেলেছে ইউকেএসসি। বিনা দ্বিধায় জানিয়ে দিলেন, চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে বাকিদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে ইউনাইটেড। তবে ময়দানের অভিজ্ঞ কোচ মনে করেন, একজন পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে দলে।
হারলেও প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দলের প্রশংসা করতে হবে। বিপক্ষ কন্যাশ্রী কাপে চ্যাম্পিয়ন। এএফসি কাপ, আইডব্লুএলে খেলা দল। প্রথম একাদশে পাঁচজন জাতীয় দলের প্লেয়ার। গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ দেয়নি ইউনাইটেড। বরং, একটা সময় পর্যন্ত সমান টক্কর দেয়। বিরতিতে ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল। গোলদাতা অষ্টম ওরাও এবং আশালতা দেবী। তারমধ্যে প্রথম গোল বিতর্কিত। অফসাইডের প্রশ্ন ওঠে। গ্যালারি থেকে খালি চোখে মনে হয়, নিশ্চিত অফসাইড। দ্বিতীয় গোল পেনাল্টি থেকে। ইউনাইটেডের ডিফেন্ডারদের একটা ভুলে। অর্থাৎ, ফিল্ড গোল করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। এদিন হারলেও গ্রুপের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই চ্যাম্পিয়নশিপে রাউন্ডে প্রবেশ করে ফেলেছে প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দল।
ধারে-ভারে এগিয়ে থেকেই শুরু করেছিল লাল হলুদ। তাই শুরুতে বিপক্ষকে মেপে কিছুটা রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি সাজান ইউনাইটেডের কোচ। সামনে একা রাখেন অ্যানি তায়াংকে। কিন্তু এদিন কিছুটা ম্লান দেখায় অরুণাচলের ফুটবলারকে। প্রথমার্ধে আক্রমণ কিছুটা ভোঁতা ছিল। বিরতির পর অনেক পজিটিভ ফুটবল। আক্রমণও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি নিশ্চিত গোল মিস ইউকেএসসির। লাল হলুদের গোলকিপার শিখা সোরেনকে সামনে একা পেয়েও বাইরে মারেন তনুশ্রী। তবে ওজনদার ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে অলআউট আক্রমণে যেতে পারেনি ইউকেএসসি। রক্ষণ সংগঠিত করে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আক্রমণে যাওয়া ছিল স্ট্র্যাটেজি। ৯০ মিনিট সাহসী ফুটবল নবাগতদের। এই ম্যাচের আগে পারফরম্যান্সের বিচারে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে একই পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে ছিল। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে হারের ফলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল ইউনাইটেড।
দলের খেলায় সন্তুষ্ট হলেও, কয়েকজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সে খুশি নন কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্য। মূলত তাঁদের শরীরীভাষায় অখুশি। তবে এই হারকে ওয়েক আপ কল হিসেবে নিচ্ছেন। প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'একটা ছন্দে ছিলাম আমরা। খেলাটা যদি মোমেন্টামের মধ্যে হত, ভাল রেজাল্ট হলেও হতে পারত। ইস্টবেঙ্গল আমাদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী দল। এএফসি, আইডব্লুএল খেলছে। দলে জাতীয় দলের ৫-৬ জন প্লেয়ার আছে। সেই অনুযায়ী ওদের আরও ভাল খেলা উচিত ছিল। আমাদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। আমরা নিজেদের দোষে গোল খেয়েছি। আমাদের একটা হার দরকার ছিল। টানা জয়ের ফলে হয়ত প্লেয়ারদের মনে হয়েছিল, আমাদের কেউ হারাতে পারে না। মাঝে দশদিনের গ্যাপে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। ওরা খেলতে যাবে বলে খেলা বন্ধ রাখা হয়। বড় দলগুলোর কথা শোনা হয়। আমাদের হয় না।'

টানা ছয় ম্যাচে ক্লিনশিট রাখার পর জোড়া গোল হজম। তবে এদিন ইউকেএসসির রক্ষণের প্রশংসা করতে হবে। অনবদ্য মিনি রায়, রত্না হালদাররা। এই ম্যাচটা ৭ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় দলের খেলার জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। দশ দিনের গ্যাপে কিছুটা ছন্দ হারায় ইউনাইটেড। তবে ম্যাচের রেজাল্ট যাই হোক না কেন, দীর্ঘদিন পর দেখা গেল চেনা ময়দানের ছবি। গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তরজা। সমর্থকদের সংখ্যায় অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দেয় ইউকেএসসি। আপাতত কয়েকদিনের ছুটি। নির্বাচনের পর আবার চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের প্রস্তুতি শুরু করবে পূজা, অনিতা, অ্যানিরা।
















