আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম ম্যাচ জিতেছে। কাতার ড্র করেছে। এশিয়ার আরেক শক্তি জাপান প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এল। নেদারল্যান্ডসের  সঙ্গে ২-২ গোলে খেলা শেষ করল জাপান। দু'বার পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এসে জাপান দেখিয়ে দিল ইউরোপের দলগুলোর থেকে কোনও অংশে কম নয় এশিয়ার দেশ। যখন সবাই ধরে নিয়েছে জাপানের পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব নয়, ঠিক তখনই সামুরাইরা প্রত্যাঘাত করল। আর সেই আঘাতে ডাচরা ধরাশায়ী। ৮৯ মিনিটে কামাদার গোল ডাচদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ করে দিল। জাপান পয়েন্ট কেড়ে  নিল নেদারল্যান্ডসের থেকে। 

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পর জমে ওঠে ম্যাচ। ম্যাচের চারটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১ মিনিটে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তবে মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই সেই গোল শোধ করেন জাপানের কেইতো নাকামুরা। ৬৪ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোলে আবারও লিড নেয় ডাচরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি জাপান। ৮৯ মিনিটে দাইচি কামাদার গোল এশিয়ার দলটিকে সমতায় ফেরায়। ফলে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান।

প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা মেলেনি। ৩৪ মিনিটে কর্নার থেকে মালেনের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় বাঁচান জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। তাঁর একাধিক চমৎকার সেভে বিরতির সময় স্কোরলাইন থাকে ০-০। 

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ৫১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন ফন ডাইক। তিনি যখন হেডটি করছেন তখন কেউই তাঁকে মার্কিং করেননি। বলা যায় বিনা বাধায় হেড করে গোল করেন ডাচ অধিনায়ক। 
তবে পিছিয়ে পড়ার মাত্র ছয় মিনিট পরই জবাব দেয় জাপান। ৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন আক্রমণ থেকে কেইতো নাকামুরা গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। 

৬৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডস ফের গোল করে এগিয়ে যায়। এ যাত্রায় ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোলে ২-১ করে ফেলে কমলা জার্সিরা। কিন্তু জাপান লড়াই ছাড়েনি। ৮৯ মিনিটে কামাদা গোল করে ২-২ করেন। তার পরে কোনও পক্ষই আর গোল করতে পারেনি। 

ছোট ছোট পাসে আক্রমণের জাল বুনছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের আক্রমণ সামাল দিতে রক্ষণে অতিরিক্ত ফুটবলার নামিয়ে আনলেও বল ফিরে পেতেই বিদ্যুৎগতিতে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসছিল জাপান। সেই গতির সঙ্গে ছিল নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণভাগের তীক্ষ্ণতা। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিক চাপই ফল দেয়। দু'বার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি জাপান, বরং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে এশিয়ার ফুটবলের শক্তিরই প্রমাণ দিল সামুরাইরা।