আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের শেষ দুই সংস্করণে ব্যাট হাতে বিস্ফোরক পারফরম্যান্স করেন বৈভব সূর্যবংশী। 

১৫ বছর বয়সেই তিনি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম চর্চিত নাম। তবে তাঁর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ছ'বছরের নিরলস পরিশ্রম ও কঠোর অনুশীলন।

বৈভবের শৈশবের কোচ মণীষ ওঝা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা অনুশীলন করতেন বৈভব। দিনে গড়ে ১০০ ওভার বা ৬০০-রও বেশি বলের মুখোমুখি হতেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওঝা জানান, আইপিএলের দুর্দান্ত মরশুমের পরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের হয়ে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড সফরে ডাক পাওয়া বৈভবের সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর কঠোর অনুশীলনের ফল।

গত আইপিএলে ৭৭৬ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন বৈভব। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭-এরও বেশি।

বৈভবের কোচের কথায়, ''আমরা কখনও বল গুণে রাখিনি। প্রতিদিন ৬০০-র বেশি বল খেলত বৈভব।'' 

তিনি জানান, এর মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০ বল নিজে থ্রোডাউন করাতেন। পরে সহকারী কোচ ও অ্যাকাডেমির বোলাররা দায়িত্ব নিতেন। নেট সেশন, থ্রো ডাউন এবং বোলিং মেশিন, সব মিলিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলত অনুশীলন।

ওঝার মতে, বৈভবের শরীরে বিশেষ ধরনের 'মাসল মেমরি' তৈরি হয়েছে, যা তাঁর ব্যাটিংকে আরও নিখুঁত করেছে। তিনি বলেন, ''একই কাজ বারংবার করলে দক্ষতা বাড়ে। তার সঙ্গে সঠিক কোচিং ও মনোযোগ থাকলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। বৈভবের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।'' 

বৈভবের সাফল্যের পিছনে তাঁর বাবা-মায়ের অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন কোচ। তিনি বলেন, ''অভিভাবকদের সমর্থন ছাড়া কোনও ক্রীড়াবিদের পক্ষে বড় হওয়া সম্ভব নয়।''

বৈভবের বাবা এবং মা-র ত্যাগের কথা উল্লেখ করে ওঝা জানান, সমস্তিপুর থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে পাটনায় অনুশীলনে আসতেন বৈভব। 

ভোর পাঁচটার আগেই রওনা দেওয়ার জন্য তাঁর মা রাত ২টা বা আড়াইটায় উঠে ১০-১৫ জনের জন্য খাবার রান্না করতেন। শুধু নিজের ছেলে নয়, অ্যাকাডেমির অন্যান্য বোলার ও আর্থিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ক্রিকেটারদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করতেন তিনি।

ওঝা বলেন, ''অনেক সময়ে বোলাররা খাবার আনতে ভুলে যেত। তখন বৈভবের পরিবারের আনা খাবারই সবার সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া হতো। একজন মায়ের এই ত্যাগকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।''

এদিকে বৈভবের উত্থানের পর তাঁর অ্যাকাডেমিতে অভিভাবকদের ভিড় বেড়েছে বলেও জানান ওঝা। তাঁর কথায়, ''আগে ৯-১০ বছরের বাচ্চাদের নিয়ে আসতেন অভিভাবকরা। এখন পাঁচ বছরের শিশুদেরও ভর্তি করাতে আসছেন। বৈভব আজ সারা দেশের শিশু ও অভিভাবকদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।'' 

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বৈভবের মতো সাফল্য অর্জন করতে গেলে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন।