আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাত জেগে এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা দেখছে এশিয়ার দলগুলো ইউরোপের চোখে চোখ রেখে লড়ছে। সেই লড়াই এই বঙ্গের, এই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের বুকের ভিতরে ঝড় তোলে। তাঁদের হৃদয়ের কোথাও যেন জমে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়, কাতারের লড়াই, জাপানের মরিয়া যুদ্ধ দেখার পরে সবার মনের ভিতরেই উঠছে প্রশ্ন, ওরা পারে, আমরা কেন পারি না?
একদিন ভারতও ছিল স্বপ্নের সমার্থক। একদিন এশিয়ার আকাশে ভারতীয় ফুটবলের নাম উচ্চারণ করা হতো শ্রদ্ধা আর বিস্ময়ের সঙ্গে।
১৯৭০ সালের ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমস। পড়ন্ত বিকেলের আলোয় সবুজ মাঠে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন সুধীর কর্মকার, নইমউদ্দিন, শ্যাম থাপারা। তাঁদের চোখে ছিল না কোটি টাকার চুক্তি, ছিল না সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষ-কোটি ফলোয়ার। ছিল শুধু দেশের জন্য লড়ে যাওয়ার এক সংকল্প। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন সৈয়দ নইমউদ্দিন।
সেবার ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল জাপান। সেই জাপান, যাদের নাম আজ বিশ্বমঞ্চে উচ্চারিত হয় গর্বের সঙ্গে। সেই জাপানেরই তারকা ফুটবলার কামামোতোকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন সুধীর কর্মকার। কিংবদন্তি কোচ পিকে ব্যানার্জির দেওয়া দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন অক্ষরে অক্ষরে। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে তা রূপকথা হয়ে আছে। পিকে ব্যানার্জির প্রথম লিস্টে সুধীর ছিলেন স্টপার। তিনি ও নইমউদ্দিন রক্ষণকে নির্ভরতা দিয়েছিলেন।
তৎকালীন ফিফার সভাপতি স্ট্যানলি রাউস বাঙালি সুধীরের প্রশংসা করেছিলেন। সেই সময়ে এই পৃথিবীতে স্মার্টফোন ছিল না, ছিল না ইউটিউবের অসীম ভাণ্ডার। ফলে সুধীরের ট্যাকল, শ্যাম থাপার ড্রিবলিং, নইমের নেতৃত্ব, আজকের প্রজন্ম দেখতে পায় না।
বর্তমান প্রজন্ম শুধু গল্প শোনে। তা শুনে অনুমান করার চেষ্টা করে, কতটা মহান ছিল সেই সময়।
১৯৭০-এর পর ছাপ্পান্ন বছর কেটে গিয়েছে। জাপান এগিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়েছে, এশিয়ার আরও অনেক দেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে। আর ভারত পিছিয়েই চলেছে। কবে এই দুঃসময় কাটিয়ে উঠবে ভারত? কীভাবেই বা তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব? প্রশ্ন সবার, কিন্তু উত্তর জানা নেই।















