আজকাল ওয়েবডেস্ক: আনোয়ার আলি মামলায় আরও একটি পদক্ষেপ নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এবার ক্যাসের দ্বারস্থ বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রায় দেড় বছর ধরে আনোয়ার মামলার কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। একাধিকবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দরজায় কড়া নাড়া সত্ত্বেও কোনও সুরাহা মেলেনি। তাই এবার আর সময় নষ্ট না করে ক্যাসের দ্বারস্থ হল মোহনবাগান। সোমবার এই পদক্ষেপ নেয় সবুজ মেরুন কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন আগেই ফিফাকে চিঠি দিয়ে আনোয়ার আলি মামলার নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছিল মোহনবাগান। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে চান খোদ আনোয়ার। ফেডারেশনকে আইনি চিঠি পাঠান তারকা ডিফেন্ডারের আইনজীবী। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি চেয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ জানিয়েছিল আনোয়ার। কিন্তু তার দেড় মাস কেটে যাওয়া সত্ত্বেও কোনও অগ্রগতি নেই।

এর আগে আনোয়ার ইস্যু নিয়ে ফিফার দ্বারস্থ হয় মোহনবাগান। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে ছয় পাতার একটি চিঠি পাঠানো হয়। আনোয়ার ইস্যুতে ফেডারেশনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট। তাই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আনোয়ারকে নিয়ে দুই প্রধানের মধ্যে ঝামেলার প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। ইস্ট-মোহনের মধ্যে আইনি লড়াই এখনও চলছে। ফেডারেশনের কাছে এই বিষয়ে জানতে চায় মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনও সদত্তর পাওয়া যায়নি। বরং জানানো হয়, এই বিষয়টির সমাধানে যে অ্যাপিল কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির একজন সদস্য সরে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে সেই কমিটির আর অস্তিত্ব নেই। আবার নতুন করে কমিটি গঠন করতে হবে। যা সময়সাপেক্ষ। এটা জানানোর পর ফিফাকে চিঠি পাঠায় মোহনবাগান। 

প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় বছর ধরে এই মামলা চলছে। ১৩ নভেম্বর ফেডারেশনের অ্যাপিল কমিটি শুনানি পিছিয়ে দেয়। ১২ এবং ১৩ নভেম্বর শুনানি ছিল। কিন্তু চার সদস্যের কমিটির মধ্যে একজন পদত্যাগ করার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। আইনজীবী অশোক কুমার ত্রিপাঠীর জায়গায় কাউকে কমিটিতে নেওয়া হয়নি। কোরাম সম্পূর্ণ করে পরবর্তী শুনানি ২৮ এবং ২৯ নভেম্বর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির ৭৯ ধারা অনুযায়ী কোরাম সম্পূর্ণ না হওয়ায় বৈঠক করা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, ফেডারেশনের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি আনোয়ারকে চার মাসের জন্য নির্বাসিত করেছিল। পাশাপাশি ট্রান্সফার ব্যান করা হয়। আনোয়ার, ইস্টবেঙ্গল এবং দিল্লি এফসির মোহনবাগানকে ১২.৯ কোটি জরিমানা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট তাতে স্ট্যান্ড অর্ডার দেয়। ফেডারেশনের অ্যাপিল কমিটিকে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়।