মোহনবাগান-১ এফসি গোয়া-১
(ম্যাকলারেন) (রনি)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: মোহনবাগানকে থালায় 'সন্দেশ' সাজিয়ে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ ঝিঙ্গান। জাতীয় দলের হয়ে খেলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও তিনি রক্ষণের জিব্রাল্টর রক। কিন্তু শনিবার মোহনবাগানের বিরুদ্ধে এরকম শিশুসুলভ ভুল করলেন কীভাবে, তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।
বল নিয়ে খেলার ক্ষেত্রে কোনওদিনও সাবলীল নন সন্দেশ। হুয়ান ফেরান্দো তখন মোহনবাগানের কোচ, সেই সময়ে সন্দেশকে তিনি ছেঁটে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই সন্দেশ এদিন সহজ বল রিসিভ করতে না পেরে বল তুলে দেন বিপজ্জনক ম্যাকলারেনের পায়ে।
সুযোগসন্ধানী অজি স্ট্রাইকার বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে এফসি গোয়ার গোলকিপারের পায়ের নীচ দিয়ে গোল করে দেন। সন্দেশ তখনও ম্যাকলারেনের ধারেপাশে নেই। গোল হজম করায় সন্দেশ অপরাধবোধে বা নিজের ভুল বুজতে পেরে মুখে হাত দেন।
ভাগ্য সন্দেশের সহায় আজ। নব্বই মিনিটের শেষে খেলার ফল ১-১। নাহলে সন্দেশকেই কাঠগড়ায় তোলা হত।পিছিয়ে পড়া গোয়া একাধিক পরিবর্তন আনে। ৬৭ মিনিটে এফসি গোয়ার সুপার সাব রনি উইং থেকে বল ভাসিয়ে গোল করেন। সবুজ-মেরুন গোলকিপার বিশাল কেইথ বলের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি। বাগানের বারের নীচে কেইথ বরাবরই দুর্ভেদ্য। এদিন রনির নিরীহ সেন্টারের গতিপথ ধরতে না পেরে দলকে ডোবালেন। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে মোহনবাগান এক পয়েন্ট সংগ্রহ করল।
এদিন জিতলেই মোহনবাগান পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে যেত ইস্টবেঙ্গলকে টপকে। কিন্তু মোহনবাগান-এফসি গোয়া ম্যাচের শেষে সেই ইস্টবেঙ্গলই একনম্বরে। অস্কার ব্রুজোঁর দলকে দিনকয়েক আগেও কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেননি। সেই লাল-হলুদ এখন সবার উপরে।
মোহনবাগান-এফসি গোয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে ঢিমেতালে ফুটবল। এফসি গোয়া কোচ মানোলো মার্কেজ নির্বাসনের জন্য গ্যালারিতে। তাঁর পরিবর্তে এফসি গোয়ার রিমোট কন্ট্রোল ছিল গৌরমাঙ্গির হাতে। প্রথমার্ধে দুই দলের খেলা দেখে মনেই হয়নি তারা জেতার জন্য নেমেছে। অজস্র ভুল, অসংখ্য মিস পাস, চোখে দেখা যায় না এরকম হতশ্রী ফুটবল।
দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের অভিজ্ঞ কোচ সের্জিও লোবেরা বুদ্ধিদীপ্ত পরিবর্তন আনেন। কামিন্স, মনবীরের মতো খেলোয়াড়দের মাঠে পাঠান। মোহনবাগানকে তখন থেকেই উজ্জ্বল দেখায়। এর মধ্যেই সন্দেশের ভুলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। পিছিয়ে পড়া গোয়ায় প্রাণ সঞ্চার করার জন্য গৌরমাঙ্গিও একগুচ্ছ পরিবর্তন আনেন। সুপার সাব রনি ডান প্রান্ত থেকে বল ভাসিয়ে সমতা ফেরান। শেষের দিকেও গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে এফসি গোয়া। মোহনবাগানও সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু ম্যাচের ফলাফলে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় সবথেকে সুবিধা হল ইস্টবেঙ্গলের। ১৭ তারিখের ইস্ট-মোহন ম্যাচই হয়তো আইএসএলের দিকনির্দেশ করবে। জমজমাট জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে এবারের টুর্নামেন্ট। শেষ হাসি কার জন্য তোলা থাকে সেটাই এখন দেখার।















