আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিরাট কোহলির শক্তিশালী শট থেকে কোনওরকমে বাঁচালেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। রায়পুর মাতালেন দুই ভারতীয় ব্যাটার। কোহলি পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। রাঁচির পর রায়পুরেও তিনি সেঞ্চুরি করেন। অন্যদিকে রুতুরাজ গায়কোয়াড় নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি করলেন। রুতুরাজের সেঞ্চুরির নেপথ্যে কোহলির অবদানও অপরিসীম। একাধিকবার তাঁকে নানান পরামর্শ দিতে দেখা গিয়েছে বিরাটকে। তা যে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, তা বোঝা গিয়েছে বুধবার। মাথা ঠান্ডা রেখে তাঁর ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করেছেন তরুণ ব্যাটার।
পার্টনারশিপ চলাকালীন কোহলির শট থেকে কোনওরকমে নিজেকে সরিয়ে নেন রুতুরাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার ছিলেন করবিন বশ। কোহলি স্টেপ আউট করে বশকে জোরালো স্ট্রেট ড্রাইভ করেন। রুতুরাজ বলের লাইন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কোহলিও প্রথমটায় শঙ্কিত হয়েছিলেন। পরে তিনি হেসে ফেলেন। রুতুরাজের পিঠে হাত দিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
Virat Kohli Into the 90s with a killer shot at Ruturaj gaikwad 😭😭😭😭
— SK Chatterjee 🚩 (@SChatterjee02)
Next up the Three digit mark 🤞🎯#INDvsSA #ViratKohli𓃵 https://t.co/HQJMRe8fTD pic.twitter.com/aFUOaek0JiTweet by @SChatterjee02
এই নিয়ে বিরাট টানা দু’বার সেঞ্চুরি হাঁকালেন ১১ বার। যা একটা নজির। বিশ্বের আর কোনও ব্যাটারের এমন নজির নেই। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে প্রাক্তন প্রোটিয়া তারকা এবি ডিভিলিয়ার্স। আরও একটি রেকর্ড হল, বিভিন্ন ভেন্যুতে সর্বাধিক ওয়ানডে সেঞ্চুরির (৩৪*) রেকর্ডও এখন তাঁর নামে। তাঁর পরে রয়েছেন শচীন তেণ্ডুলকার (৩৪), রোহিত শর্মা (২৬), হাসিম আমলা (২১), এবি ডিভিলিয়ার্স (২১)। এমন দুর্ধর্ষ সেঞ্চুরির পর চেনা ভঙ্গিতে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন বিরাট। গোটা দেশ উদযাপন করছে বিরাটের এই শতরান নিয়ে।
বিরাট কোহলি বদলালেন না। এই ৩৭-এও তাঁর শরীরী ভাষায় গনগনে আঁচ। সেঞ্চুরির পরে এখনও তিনি আগের মতোই আবেগপ্রবণ। রাঁচিতে সেঞ্চুরির পরে শূন্যে হাত ছুড়েছিলেন। এদিনও লাফালেন। সেই লাফ দেখে মনে হতেই পারে এখনও তিনি আকাশ ছুঁতে চান।
৫৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি। বিরুদ্ধস্রোতের মধ্যেই ব্যাট করছেন তিনি। ড্রেসিং রুমে গৌতম গম্ভীর রয়েছেন। যিনি চান না কোহলিকে। অন্যদিকে বাইশ গজে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। একই সঙ্গে বিরাট কোহলিকে সামলাতে হচ্ছে ঘরের ও বাইরের শত্রুকে। আর মনস্তাত্বিক খেলায় বিরাট একশোয় দুশো পাবেন। রাঁচির পরে রায়পুরেও শতরান। তাঁকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা, বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন বিরাট কোহলি। এরপরেও কি তাঁর নিন্দুকরা বলবেন, কোহলি তাঁর আসল সময় ফেলে এসেছেন?
নিন্দুকরা মুখ খুলতেই পারেন। বলতেই পারেন, ঘরের মাঠে পাটা উইকেটে কোহলি ব্যাট করছেন। তাঁর সেঞ্চুরিকে খাটো চোখে দেখাতেই পারেন। কিন্তু এরকম চাপ নিয়ে কোহলি কি আগে কখনও খেলেছেন? বিপক্ষকে সামলানোর চাপ থাকে। কিন্তু এই চাপ তো স্বয়ং ঘরের। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কর্তারাও তো একপ্রকার বিরাটকে আর খেলাতে চান না। এখানেই বিরাট কোহলি ছাপিয়ে যাচ্ছেন সবাইকে। এখানেই তিনি হয়ে উঠছেন বিরাট। শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে দিচ্ছেন। তাঁর ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ধরা দিচ্ছে। রাঁচিতে ভারত করেছিল ৩৪৯ রান। রায়পুরে ভারত ছাপিয়ে গেল সেই রানও। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারত করল ৫ উইকেটে ৩৫৮ রান। এই ইমারত গড়ার নেপথ্যে রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও বিরাট কোহলি।
