আজকাল ওয়েবডেস্ক: টিম ইন্ডিয়ার সাপোর্ট স্টাফ ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে দিল বিসিসিআই। অভিষেক নায়ারকে দিয়ে শুরু হয়েছিল। তারপর স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেশাইকে ছেঁটে ফেলা হয়। এবার আরও একজন দীর্ঘদিনের সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হল। সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় দলের দীর্ঘদিনের ম্যাসিওর রাজীব কুমারকেও ছেঁটে ফেলা হল। প্রাক গৌতম গম্ভীর যুগের যেসব স্টাফ ছিল, তাঁদের একে একে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজীব দশ বছরের বেশি ভারতীয় দলের সদস্য। এবার দলের সঙ্গে ইংল্যান্ডেও গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্কের এক প্রভাবশালী সদস্য মনে করেন, কোনও সাপোর্ট স্টাফ দলের সঙ্গে একাধিক বছর থাকলে তাঁর কার্যকারিতা কমে যায়। প্লেয়ারদের সঙ্গে তাঁদের স্বচ্ছন্দতা গড়ে ওঠে, যা দলের উন্নতিতে প্রভাব ফেলে।
গৌতম গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই টিম ইন্ডিয়ার সাপোর্ট স্টাফে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। অভিষেক নায়ারকে সরিয়ে দেওয়ার পর ছেঁটে ফেলা হয় টি দিলীপকেও। কিন্তু ইংল্যান্ড সফরের আগে আবার তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে এশিয়া কাপের দলের অঙ্গ তিনি হবেন কিনা এখনও জানা নেই। বর্তমানে গৌতম গম্ভীরের সংসারে সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে। ব্যাটিং কোচ শীতাংশু কোটাক। বোলিং কোচের ভূমিকায় মর্নি মরকেল। স্ট্রেন্থ এবং কন্ডিশনিং কোচ অ্যাদ্রিয়ান লে রোক্স। ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায় এখনও রয়েছেন টি দিলীপ। থ্রো ডাউন স্পেশালিস্ট রাঘবেন্দ্র দিবেদী। লজিস্টিকস ম্যানেজার উপাধ্যায়। ভিডিও অ্যানালিস্ট হরি।
প্রসঙ্গত, প্রথম কোপ পড়ে অভিষেক নায়ারের ওপর। জানা যায়, ভারতীয় দলের এক হাইপ্রোফাইল সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে ঝামেলার জেরেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও কারণ হিসেবে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির ব্যর্থতাকে দেখানো হয়। বোর্ডের এক সূত্র জানায়, 'অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার জন্যই নায়ারকে সরানো হয়েছে। কিন্তু বোর্ডের অনেকেই মনে করেন, তাঁকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। একজন সিনিয়র তারকার সঙ্গে সাপোর্ট স্টাফের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ঝামেলার জেরেই তাঁকে সরতে হয়েছে।' তারপর ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ এবং স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেশাইকেও ছাঁটাই করা হয়। ভারতীয় দলে তিন বছর হয়ে গিয়েছে তাঁদের। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাপোর্ট স্টাফের সময়সীমা তিন বছর বরাদ্দ করা হয়েছে। ভারতের প্রথম স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লি রুকসকে আবার ফেরানো হয়। ২০০৩ বিশ্বকাপের সময় সৌরভ গাঙ্গুলির দলে ফিটনেস সংস্কৃতি তৈরি করেছিলেন তিনি।
