সত্তরের দশকের 'পিডিজি ফর্মুলায়' ছাব্বিশের ভোটে বাজিমাত করার 'প্ল্যান' সিপিএম-এর?
- 1
- 10
সত্তরের দশকের প্রমোদ দাশগুপ্তর ফর্মুলায় (PDG ফর্মুলা) পুরনো সংগঠনী ছকেই আবার জনসমর্থন ফেরাতে মরিয়া সিপিএম। ক্রমশ ভোটে শূন্যের গেরো কাটানোর লক্ষ্যে এবার নেতাদের বক্তার আসন থেকে নামিয়ে এনে শ্রোতার ভূমিকায় বসাতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সিদ্ধান্ত স্পষ্ট- ভাষণবাজি নয়, পাড়ায় বসে সাধারণ মানুষের কথা শোনা। ছবি: সংগৃহীত
- 2
- 10
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে বুথ স্তরে ‘পাড়া বৈঠক’ বা ছোট বৈঠকি সভার পথে হাঁটছে দল। এই বৈঠকগুলিতে বক্তা হবেন এলাকার বাসিন্দারা, আর পার্টির স্থানীয় নেতৃত্ব থাকবেন শ্রোতা হিসেবে। চলতি মাসেই এভাবে প্রায় ২৫ হাজার বৈঠক করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সিপিএমের শাখা ও এরিয়া কমিটিগুলি। ছবি: সংগৃহীত
- 3
- 10
৩৪ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পর আজ বাংলার রাজনীতিতে বামেদের অবস্থান কোণঠাসা। সিপিএম নেতাদের দীর্ঘ ভাষণ কিংবা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই বললেই চলে। সেই বাস্তবতা মেনেই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন। সম্প্রতি কোচবিহার থেকে উত্তর ২৪ পরগনা পর্যন্ত ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ করে দল। গ্রামবাংলাকেই মূল লক্ষ্য করে এই যাত্রার মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়ানো, বুথের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং দলীয় অস্তিত্বের জানান দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। ২৯ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ ডিসেম্বর কামারহাটিতে শেষ হয় এই কর্মসূচি। তার পর থেকেই পাড়ায় পাড়ায় নেমে মানুষের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
- 4
- 10
এক সময় বাম আমলে সিপিএম-এর অন্যতম কার্যকর সংগঠনী অস্ত্র ছিল পাড়া বৈঠক। পাড়ার কোনও বাড়িতে বা খোলা জায়গায় বসে স্থানীয় সমস্যা, তার সমাধান ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হত। দীর্ঘ ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকে সেই সংস্কৃতি প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। ছাব্বিশের ভোটের আগে সেই কর্মসূচিকেই ফের সামনে আনছে পার্টি। ঠিক হয়েছে, ১০–১৫ জন মানুষ থাকলেই বৈঠক হবে। চায়ের দোকানের সামনে, গলির মোড়ে বা কারও বাড়ির রকে জমায়েত করা যেতে পারে। আগেভাগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। বৈঠকে শাখা বা এরিয়া কমিটির দু-একজন পরিচিত মুখ থাকবেন, তবে নেতাদের কোনও ভাষণ দেওয়ার অনুমতি নেই। মূল লক্ষ্য- মানুষ কী ভাবছে, সেটাই শোনা। ছবি: সংগৃহীত
- 5
- 10
তবে বাস্তবে এই কর্মসূচি রূপায়ণে বাধাও কম নয়। আপাতত ১০ হাজার জায়গায় পাড়া বৈঠক সফল করতেই হোঁচট খেতে হচ্ছে সিপিএমকে। নিচুতলায় সংগঠনের জোর নেই, কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিও সীমিত। অনেক জায়গায় শুধু পুরনো মুখচেনা সমর্থকরাই হাজির হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এখনও চোখে পড়ছে না। তবুও এই বৈঠকগুলিতে উঠে আসা মতামত, অভিযোগ এবং সিপিএম সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারণা রিপোর্ট আকারে পাঠানো হবে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বুথ স্তরের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবে আলিমুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
- 6
- 10
রাজ্য জুড়ে প্রায় ৮০ হাজার বুথে ধাপে ধাপে এই ধরনের পাড়া বৈঠক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিপিএম। এ বিষয়ে লিখিত কোনও সার্কুলার না থাকলেও সংগঠনের অভ্যন্তরে মৌখিক নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। নির্দেশ অনুযায়ী শুধু ব্রাঞ্চ বা এরিয়া কমিটির নেতারাই নন, জেলা ও রাজ্য স্তরের সংগঠকরাও এই বৈঠকগুলিতে উপস্থিত থাকবেন। ‘আমি জেলা নেতা’ বা ‘আমি রাজ্য নেতা তাই অত নিচু স্তরে যাব না’ এই মানসিকতা ত্যাগ করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বৈঠক থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে উচ্চতর কমিটিতে। ছবি: সংগৃহীত
- 7
- 10
এই রিপোর্টের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা হবে, মানুষ সিপিএম-কে কীভাবে দেখতে চাইছে, সংগঠনের খোলনলচে বদলাতে কী প্রয়োজন, স্থানীয় স্তরে কোন ইস্যু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন বিষয়ে অতিরিক্ত সরব হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দু নিধন ও সম্পত্তি লুঠের অভিযোগে সেভাবে আন্দোলন না করায় সাধারণ মানুষের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েছে সিপিএম। অন্যদিকে প্যালেস্টাইন, ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন কিংবা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিয়েও দলের প্রতি বিরাগ তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের স্বীকারোক্তি। ছবি: সংগৃহীত
- 8
- 10
যদিও, বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই-এর এক নেতা জানিয়েছেন সংগঠনের তরফে 'মাইক্রো' স্তরে হলেও বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল সংঘটিত করেছেন তারা, কিন্তু তা "মিডিয়া attention" পায়নি বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
- 9
- 10
বর্তমানে সিপিএম-এর বড় সভা বা মিছিলে ভিড় থাকলেও বুথ স্তরে স্থানীয় ইস্যুতে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে সংগঠন। নতুন মুখ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা থাকলেও রাজনীতির মূল কেন্দ্র বুথ এলাকায় সংগঠন ছন্নছাড়া। এই পরিস্থিতিতে ‘ফিরে চলো অতীতে’ নীতিতেই ভরসা রাখছে আলিমুদ্দিন। সিপিএম-এর দোর্দণ্ডপ্রতাপ সংগঠক প্রমোদ দাশগুপ্তর জীবনী 'চরকা-বুলেট ও ব্যালট'-এ উল্লেখ রয়েছে কীভাবে সত্তরের দশকের ঝোড়ো সময়ে একেবারে ব্রাঞ্চ স্তরে নেমে সংগঠনকে তিলে তিলে মহীরুহের মতো ডানা মেলে ধরতে সাহায্য করেছিলেন প্রয়াত বর্ষীয়ান এই নেতা। ছবি: সংগৃহীত
- 10
- 10
