জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ড! সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আর কী লিখলেন ট্রাম্প?

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ড! ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরামহীন চাপের মুখে গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত হতে চায় না। বরং তারা ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চান। গ্রিনল্যান্ডের ঘোষণার পর থেকেই নজর ছিল, পালটা জবাবে কী বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

বুধবার বিকেলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোস্ট দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ট্রাম্প লিখছেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ড। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন। আমরা যে গোল্ডেন ডোম তৈরি করছি তার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোকে আমাদের এটি অর্জনের পথ বাতলে দিতে হবে। যদি আমরা তা না করি, রাশিয়া বা চীন করবে, এবং তা হতে দেওয়া যাবে না!' সঙ্গেই ট্রাম্প লিখেছেন,  'গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে এলে ন্যাটো আরও অনেক শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে উঠবে। এর চেয়ে কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। ' 

 

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন কপেনহেগেনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা এখন একটি রাজনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন। যদি আমাদেরকে এখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমরা ডেনমার্ককে নির্বাচন করব।”

 

নীলসেনের এই মন্তব্যটি এমন এক সময় এল যখন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স–এর মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রাজ্যের সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা।

 

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছে যে গ্রিনল্যান্ডকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ব্যাপারে আগ্রহী। সেটা আর্থিক উপায়ে হোক বা সামরিক শক্তির মাধ্যমে। যেকোনও মাধ্যমে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে নিতে চান। নিলসেনের মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানান যে, যদি গ্রিনল্যান্ড তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে তা “একটি বড় সমস্যার” সৃষ্টি করতে পারে।


স্থানীয় জনমত সমীক্ষা দেখিয়েছে যে অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসীই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিতে আগ্রহী নয়। ব্লুমবার্গ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে নির্বাচনে গ্রিনল্যান্ডের ভোটারদের চার জনের মধ্যে তিন জন এমন রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন যারা শুধু ধীরে ধীরে স্বাধীনতার দিকে এগোতে চায়, সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে নয়।


যখন নিলসেনকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে গ্রিনল্যান্ড কি স্বাধীনতা আলোচনাকে ত্যাগ করছে, তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা সবার আগে দরকার। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এবং মৌলিক নীতিগুলি রক্ষায় একত্রে আছে।”