আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইস্টবেঙ্গল এফসির মহিলা দলের ম্যানেজার হিসেবে আরও দুটি মরশুম থাকছেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ। গত মরশুমের সাফল্যের পর আরও দুটো মরশুমে দলের দায়িত্বে থাকছেন তিনি।

এমনটাই জানানো হয়েছে, ক্লাবের পক্ষ থেকে। ইস্টবেঙ্গলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আরও দুই মরশুমের জন্য ইতিমধ্যেই নতুন চুক্তিতে সই করেছেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ।

ফলে ২০২৭–২৮ মরশুম পর্যন্ত লাল–হলুদের মহিলা দলের ম্যানেজার হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন অ্যান্ড্রুজ। তিনবার ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ জয়ী এই কোচের অধীনে ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

সম্প্রতি সাফ উইমেন্স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলটির সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। চলতি মরশুমেও দলের দায়িত্বে রয়েছেন অ্যান্থনি।

ইতিমধ্যেই, ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের ম্যাচে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স করছে ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল। এএফসিতেও ইরানের ক্লাবকে হারিয়ে তারা ইতিহাস গড়েছে।

ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক দল থেকে, এমনকি একটি জাতীয় দলের তরফ থেকেও প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ইস্টবেঙ্গল এফসির মহিলা দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ।

তাঁর এই সিদ্ধান্তকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, মহিলা দল যখন একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র পুরুষ দল আইএসএল শুরুর আগে নতুন স্ট্রাইকার সই করানোর চেষ্টায় আছে।

সদ্য হামিদ আহদাদ এবং হিরোশি কিবুসুকিকে ছেড়ে দিয়েছে লাল হলুদ ম্যানেজমেন্ট। দিমিত্রিয়স ডিয়ামানটাকোসের জায়গায় নেওয়া হয়েছিল হিরোশিকে।

রোগা, লম্বা, ছিপছিপে চেহারার জাপানি স্ট্রাইকারের ডার্বি দিয়ে কলকাতা ময়দানে অভিষেক হয়। শিল্ডের বড় ম্যাচে খেলেন। তাঁর দীর্ঘকায় চেহারা ভয় ধরায় বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের।

নেমেই গোল পেয়ে যাওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছেও গিয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল কর্তা থেকে সমর্থকদের আশা পূর্ণ করতে পারেননি। সম্পূর্ণ ফিট নয়।

চোট রয়েছে জাপানির। তাছাড়াও ডিয়ামানটাকোসেরবিকল্প হয়ে উঠতে পারেননি। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল। দেশের একনম্বর লিগ শুরু হওয়ার আগেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ইস্টবেঙ্গল।

তাঁর পরিবর্তে নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে কলকাতার প্রধান। মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাপান থেকে উড়ে গিয়েছিলেন স্পেনে। প্রথম জাপানি ফুটবলার হিসেবে খেলেন স্পেনের সেভিয়াতে।

বুলফাইটিংয়ের দেশে প্রথম যখন যান, তখন স্প্যানিশ জানতেন না। ট্রান্সলেটর নিয়ে ঘুরতেন। স্পেনের একাধিক ক্লাবে খেলেছেন তিনি। এ লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ৩৪ বছরের স্ট্রাইকারের।

কলকাতায় পা রাখার পর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা ভেবেছিলেন জাপানি বোমায় ধ্বংস হবে প্রতিপক্ষ। কিন্তু হিতে বিপরীত। গোয়ার ফতোর্দা স্টেডিয়ামে সুপার কাপের ফাইনালে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে যে গোল মিস করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য।

দল ভাল খেললেও গোলের অভাবে একের পর এক হাতছাড়া হচ্ছে ট্রফি। ক্লেইটন‌ ডি সিলভা, দিমিত্রিয়স ডিয়ামানটাকোসের পর এবার ব্যর্থ হিরোশি ইবোসুকি। কয়েকদিন আগেই হামিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, দু'জন বিদেশির খোঁজে ইস্টবেঙ্গল।