আজকাল ওয়েবডেস্ক: লক্ষ্মীবারের রাতটা আর পাঁচটা ম্যাচের মতো নয়। সময় নিজেই যেন দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে, যেখানে একদিকে অপেক্ষা, অন্যদিকে ইতিহাস। সেই ইতিহাসের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ।
সেই মহারণের আগে মিলেমিশে যাচ্ছে প্রাক্তন ও বর্তমান। প্রাক্তন কোচ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাচ্ছেন বর্তমান কোচকে। লাল-হলুদের বহু লড়াইয়ের সাক্ষী ফিলিপ ডি রাইডার আবেগ জড়ানো কণ্ঠে অস্কারের উদ্দেশে বলছেন, ''আমি একদিন ইতিহাস গড়েছিলাম। এবার সেই ইতিহাস লেখার পালা তোমার, অস্কার।''
কথাগুলো শুধু শুভেচ্ছা নয়, তার থেকেও বেশি আরও কিছু। ইস্টবেঙ্গল শুধু কোনও ক্লাব নয়, এটি লক্ষ-লক্ষ ভক্তের ভালবাসা, ব্যর্থতার পরেও পাশে থাকার এক অদ্ভুত প্রতিশ্রুতি।
ইস্টবেঙ্গল কোচ হিসেবে ফিলিপ ডি রাইডারের ফেডারেশন কাপ জয় নিয়ে এখনও চায়ের পেয়ালায় তুফান ওঠে। আই লিগে মোহনবাগান ৫-৩ গোলে বিধ্বস্ত করে ইস্টবেঙ্গলকে। চাকরি যায় তৎকালীন লাল-হলুদ কোচ সুভাষ ভৌমিকের। আপৎকালীন ভিত্তিতে ফিলিপ ডি রাইডারকে কোচ করা হয়। গুয়াহাটিতে গিয়ে ফেডারেশন কাপ জিতে আসেন ডি রাইডার। ইস্টবেঙ্গল একটি গোলও হজম করেনি সেই টুর্নামেন্টে।
এমনকী যে মোহনবাগানের কাছে আই লিগে বিধ্বস্ত হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, সেই সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে ছিটকে দিয়ে ফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় করেছিল রাইডারের ছেলেরা। পরক্ষণেই অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে আসেন রাইডার। লাল-হলুদের বর্তমান কোচ অস্কার ব্রুজোঁ প্রসঙ্গে রাইডার বলছেন, ''ভাল কোচ কে? যে তিন পয়েন্ট এনে দেয়। দলকে জেতায়। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়। অস্কার ব্রুজোঁ সেটাই করে চলেছে।''
ডার্বি ম্যাচের অব্যবহিত পরেই সাক্ষাৎ হয়েছিল লাল-হলুদের বর্তমান ও প্রাক্তনীর। বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় দুই কোচের। বেলজিয়ান রাইডার বলছেন, ''আমি চাই অস্কার জিতুক। তবে ম্যাচটা কিন্তু খুবই চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। আমিও মাঠে থাকব। ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য দেখতে চাই।''
তবে এই যাত্রা শুধু অস্কারের একার নয়। অনেক দিক থেকেই অস্কার যেন সেই সব ইস্টবেঙ্গল কোচের প্রতিনিধি, যাঁরা একসময় লাল-হলুদ শিবিরকে ট্রফি জেতানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু সাফল্য এসে ধরা দেয়নি তাঁদের। সেই সব কোচদের অপূর্ণ স্বপ্ন আর অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষাগুলোকেই যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে অস্কার গৌরবের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন ইস্টবেঙ্গলকে। রাইডার বলছেন, ''ইস্টবেঙ্গলকে আবার ভাল জায়গায় ফিরে আসতে দেখে আমি খুবই খুশি। আমার মতে, গত ১০ বছরের মধ্যে অস্কারই সেরা কোচ। আমি ওকে সমর্থন করি, কারণ অস্কার ভাল মানুষ। ওর কৌশল দারুণ, আর ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও খুবই বিচক্ষণ।''
এর মধ্যেই পরিষ্কার অস্কারের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল রাইডার। লক্ষ্মীবার কী হবে, তা বলবে সময়। তবে এটুকু নিশ্চিত, অস্কার ব্রুজোঁ শুধু একটা ম্যাচ খেলতে নামছেন না। তিনি নামছেন বহু বছরের অপেক্ষা, ভাঙা স্বপ্ন আর লাল-হলুদ আবেগকে সঙ্গে নিয়ে। আর গ্যালারির কোথাও দাঁড়িয়ে হয়তো ফিলিপ ডি রাইডারও অপেক্ষা করবেন, নিজের অসমাপ্ত গল্পের নতুন অধ্যায় দেখার জন্য।















