আজকাল ওয়েবডেস্ক: পা মুড়ে বসে উঠতে গিয়েই অবশ হয়ে যাচ্ছে। আবার হাতের উপর ভর দিয়ে খানিকক্ষণ শোওয়ার পর আর নাড়াতে পারছেন না। ঝিঁঝি ধরার এই সব সমস্যায় ভুক্তভোগী কম-বেশি সকলেই। পা বা হাতের উপর দীর্ঘক্ষণ চাপ পড়লে বা একই ভঙ্গিতে বসে বা শুয়ে থাকলে সাময়িক যে অসাড় অনুভূতি তৈরি হয়, সাধারণত তাঁকেই বলা হয় ‘ঝিঁঝি ধরা’। বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ‘টেম্পোরারি প্যারেসথেশিয়া’।
তিন ধাপে ঝিঁঝি ধরা অনুভব হয়। প্রথম ধাপে কিছুটা অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়, এই সময় মনে হয় যেন ত্বকের ভিতর অসংখ্য পিপড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। এরপর খানিকক্ষণের মধ্যে হাত বা পায়ের সংশ্লিষ্ট অংশটি অসাড় হয়ে থাকে। আর শেষ ধাপ মনে হয় কেউ যেন অসংখ্য সুচ দিয়ে একসঙ্গে ওই অংশে খোঁচা লাগছে। যদিও খুব তাড়াতাড়ি সমগ্র বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে যায়। রোজকার জীবনে প্রায়ই এই সমস্যা হওয়ায় অনেকেই ঝিঁঝিঁ ধরাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে থাকতে পারে একাধিক জটিল কারণ।
দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবিটিসে ভুগলে তার প্রভাব পড়ে স্নায়ুর উপর। স্নায়ুর এই সমস্যার কারণেই ডায়াবেটিক রোগীদের মাঝেমধ্যেই পায়ে ঝিঁঝি ধরে।
ভিটামিন বি ১ ও বি ১২-এর প্রভাবে সারা শরীরের সব স্নায়ু ঠিক মতো কাজ করে। শরীরে এই ভিটামিনগুলির ঘাটতি হলেইঝিঁঝি ধরার সমস্যা বেড়ে যায়।
হাইপোথাইরয়েডিজমে শরীরের থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিক মতো থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ করতে পারে না।তখনও হাতে-পায়ে ঝিঁঝি ধরে।
অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে কখনও কখনও অ্যালকোহলিক নিউরোপ্যাথির সমস্যা শুরু। এই রোগে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে ঘন ঘন হাতে পায়ে ঝিঁঝি ধরে।
নিউরালজিয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে হাত, পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে তীব্র ব্যথা এবং জ্বালা অনুভব হয়। ফলে বিশেষ কোনও সংক্রমণ বয়সের কারণে হতে পারে এই রোগ।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার শেষের পর্যায়ে যখন শিশুর ওজন বাড়তে শুরু করে, তখন জরায়ুর চাপে পায়ের স্নায়ুগুলির উপর চাপ পড়তে শুরু করে। সেই সময় হবু মায়েদের ঝিঁঝির সমস্যা হয়।
















