সমাজমাধ্যমে কত রকম ঘটনা সামনে আসে। সম্প্রতি একটি শিশুকে ঘিরে ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা শুনলে গায়ে কাঁটা দিতে পারে। এক রাতে মা তার বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে বেবি মনিটরের মাধ্যমে নজর রাখছিলেন। হঠাৎ তিনি শুনতে পান, শিশু যেন কারও সঙ্গে কথা বলছে। প্রথমে তিনি ভাবেন, হয়তো বাচ্চা ঘুমের মধ্যে কিছু বলছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।
মনিটর থেকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল, শিশুটি যেন কারও সঙ্গে কথা বলছে, মাঝে মাঝে হাসছে, আবার যেন কারও কথা শুনে উত্তরও দিচ্ছে। এতে মা ভয় পেয়ে দ্রুত শিশুর ঘরের দিকে ছুটে যান। কিন্তু ঘরে ঢুকে তিনি অবাক হয়ে যান। ঘরে আর কেউ নেই, শুধু তার সন্তান একাই শুয়ে আছে।
এরপর তিনি মনিটরের রেকর্ডিং আবার শুনে দেখেন। সেখানে একই রকম শব্দ শোনা যায়, যেন শিশুর সঙ্গে আর কেউ রয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিষয়টিকে রহস্যময় বলে মনে করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে প্রযুক্তিগত কারণও থাকতে পারে। অনেক সময় বেবি মনিটরে অন্য ডিভাইসের সিগন্যাল ঢুকে যায়, যাকে বলা হয় ইন্টারফেরেন্স। ফলে অন্য কারও আওয়াজ শোনা যেতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ডিভাইস হ্যাক হয়ে গেলেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যেখানে অচেনা কণ্ঠ শোনা যায়।
আরেকটি বিষয় হল, ছোট বাচ্চারা অনেক সময় একা একাই কথা বলে বা খেলতে খেলতে নিজের মতো করে শব্দ করে। এতে মনে হতে পারে, সে যেন কারও সঙ্গে কথা বলছে। আসলে সেটি তাদের স্বাভাবিক আচরণেরই অংশ।
তাই এই ধরনের ঘটনা দেখলে ভয় পাওয়ার আগে ঠান্ডা মাথায় বিষয়টি বিচার করা জরুরি। প্রথমে মনিটরের সেটিংস ও সংযোগ ঠিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে ডিভাইস বদলানো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।
সবমিলিয়ে, ঘটনাটি যেমন ভয় ধরানো, তেমনই আমাদের সচেতন হওয়ার বার্তাও দেয়। প্রযুক্তি আমাদের সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু তার উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের সতর্কতাও জরুরি।















