পানিফল পুষ্টিগুণের এক উৎকৃষ্ট উৎস। এতে রয়েছে নানা ধরনের খনিজ ও ভিটামিন। ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, ফাইবার, আয়োডিন ও ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান শরীরের হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে হজম সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
থাইরয়েডের জন্য উপকারী
পানিফল থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী। এতে থাকা আয়োডিন, ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন থাইরয়েডের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যাঁদের রক্তচাপ বেশি থাকে, তাঁদের জন্যও পানিফল স্বাস্থ্যকর। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়ক, আর ম্যাঙ্গানিজ ও পটাশিয়াম টি৪ হরমোনকে সক্রিয় টি৩ হরমোনে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে, যা থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
শরীরে জল জমা ও হৃদযন্ত্রের উপকারিতা
পানিফল শরীরে অতিরিক্ত জল জমতে বাধা দেয়। বিশেষ করে যাঁরা থাইরয়েডের কারণে শরীরে ফোলা বা ভারী ভাব অনুভব করেন, তাঁদের জন্য এটি উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। একই সঙ্গে এটি শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়ক।
হজমে সহায়ক
হজম সুস্থ রাখতেও পানিফল অত্যন্ত কার্যকর। গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় এটি উপকার দেয়। পানিফলে থাকা ফাইবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
শীতকালে সহজেই পাওয়া যায় এই পানিফল। দেখতে সাধারণ হলেও এর স্বাস্থ্যগুণ অসাধারণ। এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি এবং ক্যালোরি কম, ফলে এটি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
কারা পানিফল খাবেন না
পানিফল কাঁচা কিংবা সেদ্ধ, দু’ভাবেই খাওয়া যায় এবং দুই ক্ষেত্রেই স্বাদে ভাল লাগে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় এই ফল এড়িয়ে চলাই ভাল। যাঁদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পানিফল খেলে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া গ্যাস, পেট ফোলা, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, কিডনিতে পাথর, সর্দি-কাশি, উচ্চ রক্তচাপ বা যাঁরা ব্লাড থিনার ওষুধ খান, তাঁদের পানিফল খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পানিফল শুধু স্বাদে নয়, স্বাস্থ্যগুণেও ভরপুর একটি মৌসুমি ফল। ইমিউনিটি বাড়ানো থেকে শুরু করে হজমতন্ত্র সুস্থ রাখা, থাইরয়েড ও হৃদযন্ত্রের যত্ন, বহু দিকেই এর উপকারিতা রয়েছে। তবে যে কোনও উপকারী খাবারের মতোই, পানিফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রাখা জরুরি।
