মানুষের শরীরে এমন একটি বিশেষ পয়েন্ট রয়েছে, যেখানে মাত্র ৩০ সেকেন্ড চাপ দিলে নাকি কমে যেতে পারে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল। একইসঙ্গে কমবে কোষের বার্ধক্যের গতিও, সম্প্রতি এমন দাবি নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি অনেকের কাছেই অদ্ভুত বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু কয়েকজন জাপানি গবেষক এনিয়ে পরীক্ষা করে চমকপ্রদ ফল পেয়েছেন।
গবেষকরা প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপর একটি গবেষণা চালান। সেখানে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় যেগুলোকে সাধারণত 'প্রেশার পয়েন্ট' বলা হয় সেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে সেই পয়েন্টে চাপ দেওয়া হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীদের শরীরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, অনেক অংশগ্রহণকারীর হৃদস্পন্দনের ওঠানামা বা হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি কিছুটা উন্নত হয়েছে। সাধারণত এই সূচকটি ভাল হলে বোঝা যায় যে শরীরের স্ট্রেস কিছুটা কমছে এবং স্নায়ুতন্ত্র তুলনামূলকভাবে শান্ত অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি অনেকেই জানিয়েছেন, চাপ দেওয়ার পরে তাঁদের মানসিক অস্থিরতা বা টেনশন কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রাও সাময়িকভাবে কমতে দেখা গিয়েছে। তবে গবেষকরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এটিকে কোনও 'ডেথ পয়েন্ট' বা অলৌকিক সমাধান বলে ভাবা ঠিক নয়। শরীরে এমন কোনও রহস্যময় পয়েন্ট নেই, যেটিতে চাপ দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র স্পর্শ ও চাপের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় হালকা চাপ বা ম্যাসাজ করলে স্নায়ুতন্ত্র কিছুটা শান্ত হতে পারে। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়, শরীরের টান কমে এবং মানসিক চাপও কিছুটা কম লাগতে পারে।
এ ধরনের ধারণা নতুন নয়। বহু শতাব্দী ধরে চীনা ও জাপানি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন আকুপাংচার ও আকুপ্রেশারে শরীরের বিভিন্ন প্রেশার পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। আধুনিক বিজ্ঞান এখন ধীরে ধীরে এসব পদ্ধতির প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আজকের দিনে অনেক মানুষই অতিরিক্ত কাজের চাপ, কম ঘুম, অনিয়মিত খাবার ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। ফলে শরীর ও মনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শুধু ওষুধের উপর নির্ভর না করে শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শান্ত রাখার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত ব্যায়াম, গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মাঝে মাঝে শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় হালকা চাপ দেওয়া-এসব সহজ পদ্ধতি স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই এই গবেষণা মূলত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শরীর ও মনের সংযোগ কতটা গভীর এবং সেটিকে ঠিকভাবে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
