দিনভর অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, তেলমশলাযুক্ত খাবার কিংবা কম জল খাওয়ার কারণে অনেকেরই হজমের সমস্যা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট পরিষ্কার না হলে শরীর ভারী লাগে, মুখে ব্রণ বেরয়, ত্বকও নিষ্প্রভ দেখায়। এই সমস্যাগুলো কমাতে অনেকেই ভরসা রাখেন ঘরোয়া ভেষজ পানীয়ের উপর। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই সহজে তৈরি করা যায় এমন একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়, যা শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

এই পানীয় তৈরি করতে প্রথমে একটি প্যানে এক থেকে দেড় কাপ জল নিন। জল ভাল করে ফুটতে শুরু করলে তাতে বেশ কিছু টাটকা পুদিনা পাতা দিন। পুদিনা শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের সমস্যাও অনেকটা কমায়। এরপর এক চামচ মৌরি মেশান। মৌরি খেলে গ্যাস, অম্বল এবং পেট ফাঁপার সমস্যা কমতে পারে। অনেকেই খাওয়ার পর মৌরি খান, কারণ এটি হজমে সাহায্য করে।

সঙ্গে দিন একটি ছোট দারচিনির টুকরো দিন। দারচিনি শরীরের মেটাবলিজম ভাল রাখতে সাহায্য করতে পারে। তার সঙ্গে এক চিমটে জোয়ান মেশান। জোয়ান পেটের জন্য খুব উপকারী বলে ধরা হয়। বিশেষ করে বদহজম বা শরীর ভারী লাগার সমস্যা কমাতে এটি কার্যকর। তারপর সামান্য আদা কুচি দিন। আদা শরীর গরম রাখে, সর্দিকাশি কমাতে সাহায্য করে এবং হজমও ভাল হয়।

সব উপকরণ একসঙ্গে ৫ থেকে ৭ মিনিট ভাল করে ফুটিয়ে নিতে হবে। এতে প্রতিটি উপাদানের গুণ জলের মধ্যে মিশে যাবে। তারপর ছেঁকে একটি কাপে ঢেলে নিন। এবার এতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস এবং সামান্য মধু মেশান। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আর মধু পানীয়ের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি গলা আরাম দিতেও উপকারী।

রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই পানীয় খেলে সকালে পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করতে পারে। শরীরের ভিতরে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে গেলে শরীর হালকা লাগে। হজম ঠিক থাকলে তার প্রভাব ত্বকেও পড়ে। ফলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল ও সতেজ হয়ে উঠবে। নিয়মিত এই পানীয় খেলে মুখের জেল্লা বাড়ে।

তবে শুধু এই পানীয় খেলেই গায়ের রং ফর্সা হয়ে যাবে, এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ত্বক ভাল রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত জল, ভাল ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও খুব জরুরি। যাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা বিশেষ ওষুধ চলছে, তাঁরা নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভাল হয়।