আজকাল সমাজমাধ্যমে কত রকম বিষয়ই না ঘুরে বেড়ায়। সম্প্রতি নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি দাবি। যেখানে বলা হয়েছে, স্তন্যদুগ্ধে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা নাকি হান্টাভাইরাসকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করতে পারে। এমনকী কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গবেষকরা নাকি এই বিষয়ে পরীক্ষার জন্য স্বেচ্ছাসেবকও খুঁজছেন। কিন্তু এই দাবির কতটা সত্যি?

বর্তমানে এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যা থেকে প্রমাণিত হয় যে স্তন্যদুগ্ধ পান করলে হান্টাভাইরাস সেরে যায় বা তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ট প্রিভেনশন, কোনও সংস্থাই এ ধরনের দাবি সমর্থন করেনি।

হান্টাভাইরাস একটি বিরল ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা সাধারণত ইঁদুর বা সংক্রমিত প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে ছড়ায়। এই ভাইরাসে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পেশিতে ব্যথা, এমনকী ফুসফুসে জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও আধুনিক চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্তন্যদুগ্ধে অবশ্যই রোগ প্রতিরোধে সহায়ক কিছু অ্যান্টিবডি ও পুষ্টিগুণ থাকে, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ভাইরাস সারানোর ‘অলৌকিক ওষুধ’ হিসেবে একে দেখানো সম্পূর্ণ ভুল। অনেক সময় ল্যাবরেটরিতে কিছু উপাদান নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা হলেও, তা মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হতে দীর্ঘ সময় লাগে। সেই গবেষণাগুলোকেও অনেক সময় ভুলভাবে প্রচার করা হয়।
ফ্যাক্ট চেকে আরও জানা গিয়েছে, ‘হান্টাভাইরাস সারাতে স্তন্যদুগ্ধ পান’-এই দাবির পক্ষে কোনও স্বীকৃত মেডিক্যাল জার্নাল, গবেষণাপত্র বা সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে এটি বিভ্রান্তিকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণহীন দাবি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিশেষ করে গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে ভুয়ো তথ্য মানুষকে ভুল পথে চালিত করতে পারে। কোনও অসুস্থতা দেখা দিলে ঘরোয়া বা অপ্রমাণিত উপায়ের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।