‘টক্সিক’ কর্মস্থল থেকে মুক্তি পেতে আইটি কর্মী ইস্তফা দিয়েছিলেন চাকরিতে। দু’মাস পর সঞ্চয় শেষ, গাড়িতে পেট্রল ভরানোর পয়সাও নেই। দু'বেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম৷
একসময় ভোরবেলা অনলাইনে বাজার করতেন আর আজ সেই তরুণকে দাঁড়াতে হচ্ছে সরকারি রেশন দোকানের লাইনে। কেবল পেট চালানোর জন্য। সম্প্রতি নিজের এই যন্ত্রণার কথা ভাগ করে নিয়েছেন এক প্রাক্তন আইটি কর্মী। পোস্টটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল, সহানুভূতির পাশাপাশি সমালোচনাও হচ্ছে৷
চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কারণ একটাই, মাস মাইনের থেকে মানসিক শান্তি বেশি জরুরি। তথাকথিত ‘টক্সিক’ কর্মসংস্কৃতি, অসহ্য চাপ, বসের ক্রমাগত গঞ্জনা — আর পারছিলেন না। ভেবেছিলেন, কয়েক মাস বিশ্রাম, তারপর নতুন কোথাও যোগ দেবেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি ইন্টারভিউ দিলেন, কথাবার্তা এগোল, তারপর হঠাৎ নীরবতা। “কোনও রিজেকশন মেল নেই, ফিরতি কল নেই, কিছু নেই,” লিখেছেন তিনি।
দু’মাসের মধ্যে সঞ্চয় ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ফুরিয়ে যায়। বাড়ির লোকেদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। “একসময় দু’হাত ভরে বাজার করতাম, ভাবতেও হত না। আজ সরকারি রেশন দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে খাবারের খরচ সামলাচ্ছি। গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, পেট্রল ভরার সাধ্য নেই,” তাঁর স্বীকারোক্তি।
ক্লান্ত, হতাশ এই তরুণ অবশেষে মাসিক ২৫ হাজার টাকা বেতনে এক নির্মাণস্থলের সুপারভাইজারের কাজ নিয়েছেন।
এই পোস্টের কমেন্টে কেউ লিখেছেন, আট বছর কাজ করেও বকেয়া গ্র্যাচুইটি পাচ্ছেন না, শ্রম আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে। কেউ আবার সাবধান করেছেন — “নতুন চাকরি হাতে না পেয়ে কখনও পুরনোটা ছাড়বেন না।” তবে অনেকেই মেনে নিয়েছেন, ২০২৬ সালের আইটি বাজারে নতুন কাজ পাওয়া ক্রমে কঠিন, ছাঁটাই বাড়ছে, নিয়োগ-প্রক্রিয়া অসহ্য দীর্ঘ।
সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে রাজারহাট — কলকাতার আইটি করিডোরেও কান পাতলে শোনা যায় একই অভিযোগ। বার্নআউট, অনিদ্রা, উদ্বেগ — তথাকথিত ‘হোয়াইট কলার’ পেশায় এই শব্দগুলো ক্রমে সাধারণ। বহু বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবার সন্তানকে ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে যে স্বপ্ন বুনেছিল, আজ সেই স্বপ্নের ভিতরেই জমে উঠছে চাপা কান্না।















