করোনা মহামারির ক্ষত এখনও শুকোয়নি বিশ্ববাসীর মন থেকে। এরই মাঝে এবার হানা দিয়েছে ইবোলা ভাইরাস।
2
13
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে ইবোলা (Ebola) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ (PHEIC) বা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
3
13
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাস যেভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে, তাতে পরিস্থিতি যে কোনও সময় হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
4
13
প্রায় ৫০ বছর ধরে আফ্রিকায় আতঙ্কের আরেক নাম ইবোলা ভাইরাস। এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এটি।
5
13
ইবোলার কিছু স্ট্রেইন বা প্রজাতির টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবিত হলেও এটি এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ভাইরাস হিসেবে বিবেচিত। কঙ্গো ও উগান্ডায় নতুন করে এর প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
6
13
ইবোলা কোনও বায়ুবাহিত রোগ নয়, অর্থাৎ এটি হাঁচি-কাশি বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। আফ্রিকার ফলভোজী বাদুড়, বানর ও অ্যান্টিলোপের মতো আক্রান্ত বন্য পশুর মাংস খেলে বা এদের সংস্পর্শে এলে মানুষ সংক্রমিত হয়।
7
13
আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের কোনও তরল পদার্থ (যেমন—রক্ত, বমি, লালা, প্রস্রাব, ঘাম ও বুকের দুধ) সুস্থ মানুষের শরীরের সংস্পর্শে এলে এটি ছড়ায়।
8
13
আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্যের মাধ্যমে যোনিপথ, মুখ—সব পথেই ইবোলা ছড়াতে পারে। আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত সুঁচ, সিরিঞ্জ, বিছানা বা কাপড়ের মাধ্যমেও অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।
9
13
এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি। জানা গিয়েছে, এই ভাইরাসে প্রায় ৫০% থেকে ৯০% পর্যন্ত মৃত্যুহার হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এই মহামারি সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
10
13
তাছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং সীমান্ত বাণিজ্যের কারণে এই ভাইরাস অন্য মহাদেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা রুখতেই এই বিশ্বব্যাপী সতর্কতা।
11
13
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ছিল ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ।
12
13
বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভাইরাসটি সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং পরবর্তীতে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে নতুন করে প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে।
13
13
বর্তমানে ইবোলা ভাইরাসের কেবল ‘জাইর’ প্রজাতির জন্য অনুমোদিত টিকা রয়েছে। যা হল— মার্কের ‘এরভেবো’ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ‘সাবডেনো’। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ‘সুদান’ ধরনের ইবোলার জন্যও তিনটি সম্ভাব্য টিকার পরীক্ষা চলছে।