রাজ্যের নতুন সরকার ইঙ্গিত দিয়েছিল আগেই। সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে শেষে পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
2
12
যেমন কথা তেমনই কাজ, মঙ্গলবার রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ এক ধাক্কায় কমিয়ে দিল নতুন সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হল ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হল সংরক্ষণ।
3
12
এরই সঙ্গে মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
4
12
ওবিসি-এ ক্যাটাগরির সিংহভাগ এবং ওবিসি-বি ক্যাটাগরির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষরা।
5
12
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র তফসিলি জাতি এবং উপজাতির বাইরে থাকা প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়গুলিই এই ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। শীঘ্রই সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে।
6
12
বাম আমলের শেষ দিকে এবং তৃণমূল সরকারের জমানায় রাজ্যে ওবিসি কোটা ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মোট ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
7
12
পরে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০২৪ সালে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যে ওবিসি তালিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল।
8
12
২০১০ সালের পর থেকে দেওয়া প্রায় পাঁচ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেছিল তৃণমূল সরকার।
9
12
সরকারের দাবি, সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের বিধান নেই। আগের সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর ফলে প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দুরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
10
12
মঙ্গলবার ২০১০ সালের আগে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৬৬টি সম্প্রদায়কে বৈধতা দিয়েছে রাজ্য সরকার।
11
12
এই তালিকায় কাপালি, কুর্মি, নাই (নাপিত), তাঁতি, ধানুক, কসাই, খন্ডাইত, তুরহা, পাহাড়িয়া মুসলিম, দেবাঙ্গ, হাজ্জাম (মুসলিম) এর মতো বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী এবং সামাজিক সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
12
12
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, তফশিলি জাতি থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তি এবং তাঁদের বংশধরদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।