বাড়িতে মাখন বানানো খুব কঠিন কিছু নয়। অনেকেই ভাবেন, মাখন তৈরি করতে বিশেষ যন্ত্র বা অনেক ঝামেলার দরকার হয়। কিন্তু আসলে খুব সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করা যায় টাটকা ও খাঁটি মাখন
2
10
বাড়ির তৈরি মাখনের স্বাদ যেমন ভাল, তেমনই এতে কোনও কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই এখন অনেকেই ইদানীং ঘরে মাখন বানানোর দিকে ঝুঁকছেন।
3
10
মাখন তৈরির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হল দুধের সর বা ফ্রেশ ক্রিম। বাড়িতে প্রতিদিন দুধ গরম করার পর উপরে যে সর জমে, সেটি আলাদা করে একটি পাত্রে রেখে ফ্রিজে জমিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে কয়েকদিন ধরে সর জমালে সহজেই মাখন বানানো সম্ভব। চাইলে বাজারের ফ্রেশ ক্রিমও ব্যবহার করা যায়।
4
10
মাখন বানানোর জন্য প্রথমে সেই সর বা ক্রিম একটি বড় বাটিতে নিতে হবে। তারপর বিটার, মিক্সার বা হাতের সাহায্যে সেটিকে ভাল করে ফেটাতে হবে।
5
10
কিছুক্ষণ ফেটানোর পর ক্রিম ঘন হয়ে যাবে। আরও কিছুক্ষণ ফেটালে দেখা যাবে, ধীরে ধীরে হলুদ রঙের মাখনের অংশ আলাদা হয়ে যাচ্ছে এবং সঙ্গে সাদা পাতলা জল বের হচ্ছে। এই সাদা তরলটিকে বলে বাটারমিল্ক বা ছাছ।
6
10
এই বাটারমিল্ক ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। এটি খুবই স্বাস্থ্যকর। রুটি মাখা, কেক তৈরি বা গরমের দিনে ঠান্ডা পানীয় হিসেবেও এটি খাওয়া যায়।
7
10
এরপর মাখনের অংশ আলাদা করে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিতে হবে। এতে মাখনের ভিতরে থাকা অতিরিক্ত দুধ বেরিয়ে যায় এবং মাখন বেশি দিন ভাল থাকে। কেউ চাইলে এই সময় সামান্য নুন মিশিয়ে নোনতা মাখনও তৈরি করতে পারেন।
8
10
বাড়ির তৈরি মাখন ফ্রিজে রেখে কয়েকদিন ব্যবহার করা যায়। পাউরুটির সঙ্গে খাওয়া, পরোটা, রান্না বা বিভিন্ন খাবারে এটি ব্যবহার করা যায়। এই মাখন দিয়েই আবার ঘরোয়া উপায়ে ঘি তৈরি করা সম্ভব।
9
10
ঘি বানানোর জন্য একটি প্যানে মাখন গরম করতে হবে। ধীরে ধীরে মাখন গলে ফুটতে শুরু করবে। কিছুক্ষণ পরে উপরে ফেনা উঠবে এবং নিচে দুধের অংশ জমে যাবে। মাঝখানে সোনালি রঙের যে স্বচ্ছ তরল থাকবে, সেটাই খাঁটি ঘি। সেটি ছেঁকে কাচের বোতলে ভরে রাখা যায়।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে তৈরি মাখন ও ঘি শুধু সুস্বাদুই নয়, তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদও। কারণ এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক বা কৃত্রিম উপাদান থাকে না।