মহিলাদের মধ্যে ওভেরিয়ান সিস্ট খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় এই সিস্ট শরীরে তৈরি হলেও কোনও লক্ষণ বোঝা যায় না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ড করতে গিয়েই অনেকের প্রথম ধরা পড়ে এই সমস্যা। তাই প্রথম থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত। এবিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনসালটেন্ট ড. বাণী কুমার মিত্র।
সব ওভেরিয়ান সিস্ট বিপজ্জনক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু সিস্ট অবহেলা করলে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই কখন শুধু নজর রাখতে হবে আর কখন দ্রুত চিকিৎসা দরকার, তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ওভেরিয়ান সিস্ট হল ডিম্বাশয়ের ভিতরে বা উপরে তৈরি হওয়া থলির মতো একটি অংশ, যার ভিতরে তরল, আধা-তরল বা শক্ত পদার্থ থাকতে পারে। সাধারণত মহিলাদের প্রজননক্ষম বয়সে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় ঋতুস্রাবচক্রের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও সিস্ট তৈরি হয়।
ওভেরিয়ান সিস্টের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। ফাংশনাল সিস্ট সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটি সাধারণত ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই ধরনের সিস্ট কয়েক মাসের মধ্যেই নিজে থেকে মিলিয়ে যায়। এছাড়া ডার্ময়েড সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওমা, সিস্টাডেনোমা, কর্পাস লিউটিয়াল সিস্ট এবং হেমোরেজিক সিস্টও দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে এমন সিস্টও হতে পারে, যেগুলিতে ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। এগুলিকে বর্ডারলাইন ম্যালিগন্যান্ট বা ম্যালিগন্যান্ট সিস্ট বলা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, যদি সিস্ট ছোট হয়, কোনও ব্যথা বা অস্বস্তি না থাকে এবং আল্ট্রাসাউন্ডে সিস্ট ভয়াবহতা ধরা পড়ে, তাহলে সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন করার দরকার পড়ে না। এই অবস্থায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়। কয়েক মাস অন্তর আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে সিস্টের আকার বাড়ছে কিনা, তা দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই সিস্ট সেরে যায়।
তবে কিছু লক্ষণ একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন তলপেটে দীর্ঘদিন ব্যথা, পেট ফোলা, সহবাসের সময় ব্যথা, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যাওয়া, হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাব বা মলত্যাগের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ এগুলি সিস্ট ফেটে যাওয়া গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
যদি সিস্ট বড় হতে থাকে, দীর্ঘদিন না সারে, খুব বেশি ব্যথা দেয় বা ক্যানসারের সন্দেহ থাকে, তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অনেক সময় হরমোনাল ওষুধ দেওয়া হয়। আবার ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে ছোট ছিদ্র করে সিস্ট অপসারণ করা যায়। খুব বড় বা জটিল সিস্ট হলে বড় অপারেশনও করতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়াই এই সমস্যা থেকে সুরক্ষিত থাকার সবচেয়ে ভাল উপায়। নিজের শরীরের সংকেত বুঝে সময়মতো চিকিৎসা করালে ভবিষ্যতে বড় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।















