আজকাল কম বয়সেই অনেকের শরীরে কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরচর্চার অভাব, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে শরীরে 'খারাপ'  কোলেস্টেরল বা এলডিএল বেড়ে যায়। এই কোলেস্টেরল বেশি হলে ধমনীর ভিতরে চর্বি জমতে শুরু করে। ফলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সবসময় ওষুধ না খেলেও কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে কোলেস্টেরল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 

প্রথমেই নজর দিতে হবে খাবারের দিকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত রান্না এবং রেড মিট যতটা সম্ভব কমাতে হবে। এই ধরনের খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে, যা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। তার বদলে বেশি করে শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস, ব্রাউন রাইস ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। আঁশ বা ফাইবার শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দিতে সাহায্য করে।


বাদাম, আখরোট, কাজু, কাঠবাদাম কিংবা ফ্ল্যাক্স সিডের মতো খাবারও উপকারী। এগুলিতে ভাল ফ্যাট থাকে, যা হার্ট ভাল রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শও দেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের জন্য ভাল।


শুধু খাবার নয়, নিয়মিত শরীরচর্চাও খুব জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়, সাইকেল চালানো বা যোগব্যায়াম করলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট কমতে শুরু করে। এতে ভাল কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়ে এবং খারাপ কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে কমে।


ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপানও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির বড় কারণ। তাই এই অভ্যাস থাকলে তা দ্রুত ছাড়ার চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোও খুব প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা কোলেস্টেরলের উপরও প্রভাব ফেলে।


কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। অনেক সময় শরীরে কোনও লক্ষণ না থাকলেও কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। তাই বয়স ৩০ পেরোলেই মাঝে মাঝে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।