উরুর বাইরের দিকে ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনেকেই হাঁটতে গিয়ে, সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর এই ব্যথা অনুভব করেন। কেউ আবার রাতে পাশ ফিরে শুলেও ব্যথা টের পান। বেশিরভাগ মানুষ এটিকে সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, উরুর বাইরের দিকে ব্যথার কারণ সবসময় এক নয়। ব্যথার ধরন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য লক্ষণ দেখে অনেক সময় বোঝা যায় সমস্যাটি কোথা থেকে হচ্ছে।

কোমর থেকে ব্যথা নেমে এলে: যদি কোমর থেকে ব্যথা শুরু হয়ে নিতম্ব হয়ে উরুর বাইরের দিকে ছড়িয়ে যায়, তাহলে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কোমরের ডিস্কের সমস্যা বা সায়াটিকার কারণে এমন ব্যথা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথার সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি ভাব, অবশ হয়ে যাওয়া বা পেশি দুর্বল লাগার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এই ধরনের ব্যথা অবহেলা করা উচিত নয়।

উরুর পাশে চাপ দিলে ব্যথা: যদি উরুর বাইরের অংশে বা নিতম্বের পাশে চাপ দিলে ব্যথা লাগে এবং পাশ ফিরে শুলে অস্বস্তি বেড়ে যায়, তাহলে সেটি প্রদাহের কারণে হতে পারে। এই সমস্যা বিশেষ করে মধ্যবয়সি মানুষ এবং মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, দৌড়নো বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে।

ব্যায়াম বা দৌড়ানোর পর ব্যথা: যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, দৌড়ান বা খেলাধুলা করেন, তাঁদের পেশিতে টান লাগার কারণে উরুর বাইরের দিকে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত শরীরচর্চা বা হঠাৎ ভারী কাজ করার ফলেও এই সমস্যা হয়। সাধারণত কয়েকদিন বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যায়। তবে ব্যথা যদি না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

জ্বালাপোড়া বা অবশ লাগা: উরুর বাইরের অংশে যদি জ্বালাপোড়া, অবশভাব বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে একটি বিশেষ স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ার কারণে এমন হতে পারে। টাইট পোশাক পরা, অতিরিক্ত ওজন বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি থাকে, হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, পায়ে দুর্বলতা আসে, পা অবশ হয়ে যায়, জ্বর বা ফোলা দেখা দেয় অথবা পড়ে গিয়ে আঘাত লাগার পর ব্যথা শুরু হয়, তাহলে দেরি না করে অর্থোপেডিক বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে এক্স-রে, এমআরআই বা অন্য পরীক্ষা করে রোগের কারণ জানা যায়। 

কীভাবে এই সমস্যা এড়াবেন? উরুর ব্যথা এড়াতে প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করুন। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ব্যায়াম করার আগে ওয়ার্ম-আপ এবং শেষে কুল-ডাউন করুন। আর ব্যথা শুরু হলে নিজে থেকে বারবার ব্যথার ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসাও সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমে।