আমাদের হাতের কাছে এমন অনেক উপাদান আছে যা শরীর ভাল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তেমনই রান্নাঘরের সবচেয়ে পরিচিত মশলাগুলির মধ্যে একটি হল গোলমরিচ। ডাল, তরকারি, স্যুপ, স্যালাড কিংবা ডিমের পদ, সবেতেই অল্প গোলমরিচ দিলে স্বাদ বেড়ে যায়। কিন্তু জানেন কি, এই ছোট্ট মশলাটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বেশ উপকারী হতে পারে? মাত্র ১০ টাকার গোলমরিচ কিনেই অনেক দিন ব্যবহার করা যায়। তাই কম খরচে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এটি একটি ভাল বিকল্প।

গোলমরিচে পাইপেরিন নামে একটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। এই উপাদানই গোলমরিচের ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপেরিন হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমের কাজকে সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং গ্যাস, অম্বল, বদহজম বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। তাই অনেকেই ভারী খাবারের পরে সামান্য গোলমরিচ খাওয়ার পরামর্শ দেন।

এছাড়া গোলমরিচে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এই উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ রাখতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, গোলমরিচে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। 

গোলমরিচের আর একটি বড় গুণ হল, এটি শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদান ভালভাবে শোষিত হতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে হলুদের কারকিউমিন শরীরে সহজে শোষিত হওয়ার ক্ষেত্রে গোলমরিচের পাইপেরিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অনেক পুষ্টিবিদ রান্নায় হলুদ ও গোলমরিচ একসঙ্গে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

কীভাবে খাবেন? প্রতিদিনের রান্নায় পরিমিত পরিমাণে গোলমরিচ ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভাল উপায়। ডাল, সবজি, স্যুপ, চিকেন, মাছ, ডিম বা স্যালাডের উপর সামান্য গুঁড়ো গোলমরিচ ছড়িয়ে খেতে পারেন। কেউ কেউ গরম জলে এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়েও পান করেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

কারা সতর্ক থাকবেন? অতিরিক্ত গোলমরিচ খেলে অনেকের গলায় বা পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। যাঁদের আলসার, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে বা যাঁরা নিয়মিত কিছু ওষুধ খান, তাঁরা বেশি পরিমাণে গোলমরিচ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদেরও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভাল।