সকালের খাবার এমন হওয়া উচিত, যা একদিকে পেট ভরাবে, অন্যদিকে শরীরকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেবে। কিন্তু রোজ একই ধরনের রুটি, পরোটা, ইডলি বা সাধারণ দোসা খেতে খেতে অনেকেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতেই খুব সহজে বানিয়ে নিতে পারেন মিনি সোয়া দোসা। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনই সুস্বাদু। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভাল পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা শরীরের জন্য উপকারী।
এই রেসিপির আর একটি বড় সুবিধা হল, এটি তৈরি করতে খুব বেশি সময় লাগে না। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই গরম গরম মিনি সোয়া দোসা পরিবেশন করা যায়। তাই অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকলে বা বাচ্চাদের স্কুলের টিফিন তৈরি করতে হলেও এই পদ সহজেই বানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
কী কী লাগবে? ১ কাপ সোয়া দুধ, ১/৪ কাপ আটা, আধা কাপ কুচোনো পেঁয়াজ, ১টি কুচোনো কাঁচালঙ্কা, ১ টেবিল চামচ কুচোনো ধনেপাতা, এক চিমটি বেকিং সোডা, স্বাদমতো লবণ, সামান্য তেল
কীভাবে বানাবেন? প্রথমে একটি বড় পাত্রে সোয়া দুধ ঢেলে নিন। এরপর তাতে আটা, কুচোনো পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা, বেকিং সোডা এবং লবণ দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। যদি ব্যাটার বেশি ঘন মনে হয়, তাহলে অল্প জল মেশান। ব্যাটার এমন হবে, যাতে সহজেই তাওয়ার উপর ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
এরপর একটি নন-স্টিক তাওয়া গরম করুন। তাওয়ার উপর সামান্য তেল ব্রাশ করে বা চামচ দিয়ে ছড়িয়ে দিন। এবার অল্প অল্প করে ব্যাটার ঢেলে ছোট গোল আকারে ছড়িয়ে দিন। যেহেতু এটি মিনি দোসা, তাই বড় করে ছড়ানোর দরকার নেই।
মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট রান্না করুন। এক পাশ সোনালি হয়ে এলে উল্টে অন্য পাশও ভেজে নিন। দু'দিক ভালভাবে সেঁকা হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। একইভাবে বাকি ব্যাটার দিয়ে আরও মিনি দোসা তৈরি করুন।
কী দিয়ে খাবেন? এই দোসা নারকেলের চাটনি, টমেটোর চাটনি, ধনেপাতার চাটনি বা সাম্বরের সঙ্গে দারুণ লাগে। বাচ্চারা চাইলে টমেটো সস বা পুদিনার ডিপের সঙ্গেও খেতে পারে।
কেন খাবেন মিনি সোয়া দোসা? সোয়া দুধে প্রচুর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। আটায় থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে। পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও কাঁচালঙ্কা খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজও যোগ করে।
যাঁরা নিরামিষ খাবার খান বা খাদ্যতালিকায় বেশি প্রোটিন রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। ব্রেকফাস্ট বিকেলের হোক বা টিফিন কিংবা হালকা রাতের খাবার, সব ক্ষেত্রেই মিনি সোয়া দোসা একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর পছন্দ। তবে যাঁদের সোয়া-জাতীয় খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের এই খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।















