গাড়ির ভিতরে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, রাজস্থানের এক মর্মান্তিক ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সম্প্রতি জয়পুরে এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তাঁর নিজের গাড়ির ভিতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখে এসি চালিয়ে ঘুমানোর কারণেই হয়তো এই অঘটন ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভবত দীর্ঘক্ষণ ধরে গাড়িটা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে জ্বালানি শেষ হয়ে যায় এবং এসি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে গাড়ির ভিতর দমবন্ধ হয়ে আসে। গাড়ির ভিতরে কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস জমে যাওয়ায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত বদ্ধ গাড়ির ভিতর এসি চালিয়ে ঘুমালে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা অত্যন্ত দ্রুত শরীরের কোষে হাইপোক্সিয়া তৈরি করতে পারে। এটা এতটাই ভয়ঙ্কর রূপ নেয় যে, মানুষ টেরই পায় না কখন সে বিপদের মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির ইঞ্জিন যখন চালু থাকে, তখন সেখান থেকে যে ধোঁয়া বের হয়, এসির ভেন্টের মাধ্যমে তা কেবিনে ঢুকে পড়তে পারে। যদি গাড়িটি কোনও বদ্ধ জায়গায় বা পার্কিংয়ে থাকে, তবে বাতাস চলাচলের অভাবে বিষাক্ত গ্যাসের ঘনত্ব বিপজ্জনক হারে বেড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বদ্ধ গাড়িতে এসি চালিয়ে রাখা শুধুমাত্র যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না, বরং এটি জীবন সংশয়ের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

তাই গাড়ি পার্ক করে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করাই ভাল। যদি কোনও কারণে বিশ্রাম নিতেই হয়, তবে জানলা সামান্য খোলা রাখা বা অত্যন্ত জরুরি।