কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৮ম বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে কমিশন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
2
14
কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, মহার্ঘ ভাতা এবং পেনশন কাঠামো সংশোধিত হবে।
3
14
প্রায় ১ কোটি মানুষ—এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী এই কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষায় রয়েছেন। যদিও এখনও কমিশন কোনও চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ করেনি, তবুও বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
4
14
কী এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর? ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল এমন একটি গাণিতিক গুণক, যার মাধ্যমে বর্তমান মূল বেতন বা পেনশনকে নতুন বেতন কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়। এর হিসাব খুবই সহজ।
5
14
বর্তমান মূল বেতন × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = নতুন মূল বেতন। উদাহরণ হিসেবে, সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করা হয়েছিল। তখন ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ৭,০০০ মূল বেতন বেড়ে হয়েছিল ১৮,০০০। অর্থাৎ,৭,০০০ × ২.৫৭ = ১৭,৯৯০ (প্রায় ১৮,০০০)
6
14
১.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলে কত বাড়তে পারে বেতন? বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন ১.৮৩ থেকে ৩.৮৩ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি তুলেছে। এর মধ্যে ১.৮৩-কে একটি ন্যূনতম সম্ভাব্য অনুমান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
7
14
যদি কোনও কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ১৮,০০০ হয়, তাহলে ১.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী নতুন মূল বেতন দাঁড়াতে পারে—১৮,০০০ × ১.৮৩ = ৩২,৯৪০।
8
14
অর্থাৎ, মূল বেতনে প্রায় ১৪,৯৪০ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। তবে এটি শুধুমাত্র একটি সম্ভাব্য হিসাব। চূড়ান্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করবে ৮ম বেতন কমিশন এবং তা কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
9
14
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন ৮ম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে বৈঠক করছে। আগামী ৬ ও ৭ জুলাই ওডিশার ভুবনেশ্বরে এবং ৯ ও ১০ জুলাই কলকাতায় কর্মচারী সংগঠন ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
10
14
এর আগে এপ্রিল, মে এবং জুন মাসেও বিভিন্ন রাজ্যে বৈঠক করেছে কমিশন। ভবিষ্যতেও দেশের আরও বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই আলোচনা চলবে।
11
14
কমিশন ইতিমধ্যেই কর্মচারী সংগঠনগুলির কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করেছে। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানোর পর ১৫ জুন সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমাও ৩০ জুন শেষ হয়েছে।
12
14
এছাড়া কমিশন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা নিয়োগের জন্য মোট ২০টি শূন্যপদে আবেদনও আহ্বান করেছে। এই নিয়োগ এক বছরের জন্য অথবা কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
13
14
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ৮ম বেতন কমিশন আগামী ১৮ মাসের মধ্যে নিজেদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
14
14
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। সেই হিসেবে নতুন বেতন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হতে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।