শীতের আগমন শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। ঠান্ডা-কাশি বা মৌসুমি সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তার সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজ করতে হয়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে অনিয়মিত ও পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

শীতকালীন রোগব্যাধি মোকাবিলায় ইমিউন সিস্টেমকে প্রয়োজন 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট—ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট—প্রোটিন এবং ভাল ফ্যাট। শরীর এই পুষ্টিগুলো পর্যাপ্তভাবে পেলে ইমিউন সিস্টেম সঠিকভাবে কোষ মেরামত, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারে।

পুষ্টিবিদ ডা. রোহিণী পাটিল জানিয়েছেন, সঠিক পুষ্টি পেতে কঠিন ডায়েট বা সাপ্লিমেন্ট জরুরি নয়। মাত্র পাঁচটি স্বাস্থ্যকর খাবার শীতকাল জুড়ে সুস্থ থাকার জন্য যথেষ্ট।

সাইট্রাস ফল
কমলা, গ্রেপফ্রুট, লেবুর মতো সাইট্রাস ফল ভিটামিন সি–এর দুর্দান্ত উৎস, যা শরীরে ইমিউন কোষ তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করে। এসব ফল দ্রুত মৌসুমি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে প্রস্তুত করে।

শাকসবজি এবং পাতাজাতীয় সবজি
পাতাজাতীয় এবং মৌসুমি সবজিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি। এগুলো শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

রসুন ও হলুদ
রসুন ও হলুদে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এগুলোর প্রদাহনাশক গুণ শরীরে ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি কমায় ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহ প্রশমিত করে।

দই এবং ফারমেন্টেড খাবার
দই-সহ ফারমেন্টেড খাবার প্রোবায়োটিক সরবরাহ করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ইমিউন সিস্টেমের একটি বড় অংশ অন্ত্রে থাকে, তাই প্রোবায়োটিক অন্ত্রকে শক্তিশালী করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

বাদাম, বীজ এবং ডালজাতীয় খাবার
এই ধরনের খাবার থেকে শরীর পায় জিঙ্ক, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এগুলো ইমিউন কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমন্ড, কাজুবাদাম ও কুমড়োর বীজ যোগ করতে পারেন।

ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং সহজলভ্য প্রাকৃতিক খাবারই পারে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে ভিতর থেকে গড়ে তুলতে। সঠিক পুষ্টি, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতন জীবনযাপন—এই তিনের সমন্বয়ই শীতজুড়ে আপনাকে রাখবে শক্তিশালী, কর্মক্ষম এবং সংক্রমণমুক্ত। শীতের প্রতিটি দিনকে উপভোগ করতে চাইলে এখন থেকেই ইমিউন বুস্টিং খাবারকে জীবনযাপনের অংশ করে নেওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।