বেশি মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট খেলেই শুধু রক্তে শর্করা বেড়ে যায়, এই ধারণা অনেকের মধ্যেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। খাবার ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস বা শারীরিক অবস্থার কারণে হঠাৎ করেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এমন কয়েকটি কারণ রয়েছে যেগুলো অনেকেই খেয়াল করেন না, অথচ সেগুলোর প্রভাব সরাসরি ব্লাড সুগারের উপর পড়ে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১. খুব বেশি বা ইনটেনসিটি ব্যায়ামঃ ব্যায়াম সাধারণত ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু খুব কঠিন বা হাই-ইনটেনসিটি ব্যায়াম করলে অনেক সময় উল্টে সাময়িকভাবে সুগার বেড়ে যেতে পারে। কারণ তখন শরীর দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য লিভার থেকে গ্লুকোজ রক্তে ছেড়ে দেয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে, যদিও পরে তা আবার কমে আসে।
২. ঠিকমতো ঘুম না হওয়া: এক রাত ঠিকমতো না ঘুমোলেও শরীরের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ইনসুলিন ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এতে রক্তে গ্লুকোজ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায় এবং ব্লাড সুগার বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপ: স্ট্রেস বা মানসিক চাপও ব্লাড সুগার বাড়ানোর বড় কারণ। যখন কেউ বেশি চাপের মধ্যে থাকেন, তখন শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন বাড়ে। এই হরমোনগুলো লিভারকে বেশি গ্লুকোজ রক্তে ছেড়ে দিতে বলে, ফলে সুগার বেড়ে যেতে পারে।
৪. অসুস্থতা বা সংক্রমণ: শরীরে কোনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা হলে শরীর সেই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুরু করে। তখন শরীরের শক্তির চাহিদা বেড়ে যায় এবং সেই শক্তি জোগাতে বেশি গ্লুকোজ তৈরি হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
৫. হরমোনের ওঠানামা: বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্লাড সুগার ওঠানামা করতে পারে। ঋতুস্রাবের আগে-পরে, পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের সময় শরীর ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের সুগার বাড়া অনেক সময় স্বাভাবিক এবং সাময়িক। যেমন ব্যায়াম বা অসুস্থতার সময় শরীরের প্রয়োজনেই কিছুটা গ্লুকোজ বাড়ে। তবে যদি নিয়মিত স্ট্রেস, ঘুমের অভাব বা হরমোনের সমস্যা থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং সময়ে সময়ে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা সুস্থ থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
