সাধারণত যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সোনার দাম বাড়ে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেন।
2
8
২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে একেবারে উল্টো ছবি—সোনার দাম প্রত্যাশামতো বাড়ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে কমছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক জটিল অর্থনৈতিক কারণ।
3
8
প্রথমত, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান সোনার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়েছে, আর বিশ্বব্যাপী তেলের লেনদেন ডলারে হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। ফলে ডলার শক্তিশালী হয়েছে, যা সোনার দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে ।
4
8
দ্বিতীয়ত, সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা বদলে গেছে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দ্রুত সুদের হার কমাবে—এই প্রত্যাশা কমে গেছে। বরং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে । উচ্চ সুদের পরিবেশে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়।
5
8
তৃতীয়ত, বিনিয়োগকারীরা এখন বিকল্প নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ও ডলার এখন “নিরাপদ আশ্রয়” হিসেবে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মতো সম্পদেও বিনিয়োগ বাড়ছে ।
6
8
চতুর্থত, বাজারে তারল্যের চাহিদাও একটি বড় কারণ। যুদ্ধের সময় অনেক বড় বিনিয়োগকারী নগদ অর্থ বাড়ানোর জন্য সোনা বিক্রি করছেন। ফলে স্বল্পমেয়াদে দাম কমছে ।
7
8
সবশেষে, মনে রাখতে হবে—সোনার দাম একেবারে পড়ে যায়নি, বরং ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে সোনার দাম আবার বাড়তে পারে।
8
8
সারসংক্ষেপে, এই মুহূর্তে বাজারে “শুধু নিরাপত্তা” নয়, বরং “নিরাপত্তা + আয়” বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই যুদ্ধ চললেও সোনা নয়, ডলার ও বন্ড বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।