রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের লাইট জ্বালিয়ে রাখা বা টিভি চালিয়ে রাখা অনেকেরই অভ্যাস। কেউ অন্ধকারে ভয় পান, আবার কেউ টিভির শব্দে ঘুমাতে স্বস্তি পান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চালিয়ে গেলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক বডি ক্লক বা দৈহিক ঘড়ি আছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। এই ঘড়ি দিন-রাতের আলো-অন্ধকার অনুযায়ী কাজ করে। রাতে অন্ধকার হলে শরীরে মেলাটোনিন নামে একটি হরমোন বের হয়, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘরে আলো থাকলে বা টিভির স্ক্রিনের আলো থাকলে এই হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। ফলে ঘুমের মান খারাপ হয়। 


টিভি চালিয়ে ঘুমালে শুধু আলোই নয়, টিভির শব্দ ও স্ক্রিনের পরিবর্তনশীল আলোও মস্তিষ্ককে আংশিকভাবে সক্রিয় রাখে। এতে শরীর গভীর ঘুমে যেতে পারে না। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত লাগে। 


শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, এই অভ্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাতে কৃত্রিম আলোতে ঘুমালে শরীরের মেটাবলিজম বা শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে ওজন বাড়া, স্থূলতা বা মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। 


আরও কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতে আলোতে ঘুমালে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের চক্র নষ্ট হয় এবং ঘুমের গুণমান কমে যায়। ফলে ধীরে ধীরে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া বা হরমোনজনিত সমস্যা। 


চিকিৎসকদের মতে, ভাল ঘুমের জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন ঘুমানোর আগে টিভি বা মোবাইল বন্ধ করা, ঘর অন্ধকার রাখা, এবং নির্দিষ্ট সময় মেনে ঘুমাতে যাওয়া। এতে শরীর বুঝতে পারে যে এখন বিশ্রামের সময়।


সব মিলিয়ে বলা যায়, লাইট জ্বালিয়ে বা টিভি চালিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাস হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের হরমোন ও মেটাবলিজমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভাল ঘুম ও সুস্থ থাকার জন্য রাতে যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে ঘুমানোই সবচেয়ে শ্রেয়।